কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্ত এলাকা দিয়ে এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে পুশইনের (অনুপ্রবেশ) অপচেষ্টা চালিয়েছিল ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর তীব্র বাধা ও কঠোর অবস্থানের মুখে তাদের সেই অপচেষ্টা সম্পূর্ণরূপে প্রতিহত ও ব্যর্থ হয়েছে। বিজিবির অটল ও জোরালো প্রতিরোধের মুখে শেষ পর্যন্ত বিএসএফ পিছু হটতে বাধ্য হয় এবং মঙ্গলবার সকালে নদীপথে ওই ব্যক্তিকে পুনরায় ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।
বিজিবি ও সীমান্ত এলাকার স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি)-এর অধীনস্থ জামালপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
সীমান্তের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, সীমান্ত পিলার ১৫২/১০-এস থেকে আনুমানিক ১২০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে প্রতিপক্ষ ১৪৬ ব্যাটালিয়ন বিএসএফের নার্সারীপাড়া ক্যাম্পের সদস্যরা অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তিকে বলপ্রয়োগের মাধ্যমে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানো বা পুশইনের অপচেষ্টা চালান। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে টের পেয়ে জামালপুর বিওপির বিজিবি সদস্যরা সীমান্তরেখায় শক্ত অবস্থান গ্রহণ করেন এবং পুশইনে জোরালো বাধা দিয়ে তা প্রতিহত করেন। বিজিবির দৃঢ় পদক্ষেপের মুখে বিএসএফ সাময়িকভাবে থমকে যায়। পরবর্তীতে মঙ্গলবার সকালে বিএসএফের টহল দল ওই ব্যক্তিকে নদীপথ ব্যবহার করে ভারতের অভ্যন্তরে ফের ফিরিয়ে নিয়েযেতে বাধ্য হয়। তবে বিএসএফের পুশইনের শিকার হওয়া ওই ব্যক্তির নাম, পরিচয় বা জাতীয়তা সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার সত্যতা সরাসরি নিশ্চিত করে কুষ্টিয়া বিজিবির ৪৭ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি জানান, সীমান্ত দিয়ে যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ, চোরাচালান ও সীমান্ত আইন লঙ্ঘনের অপচেষ্টা প্রতিরোধে বিজিবি সর্বদা সর্বোচ্চ সতর্ক ও প্রস্তুত রয়েছে।
তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, দেশের সীমান্তের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় স্থায়ী শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে বিজিবি পেশাদারিত্ব, নিরবচ্ছিন্ন সতর্কতা ও সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতার সঙ্গে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। বিজিবির এই কঠোর নজরদারির ফলেই সীমান্তে অনুপ্রবেশের যেকোনো অপচেষ্টা রুখে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে।