গাজা উপত্যকায় চলমান যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের সর্বশেষ ঘটনায় ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় এক ফিলিস্তিনি নিহত এবং আরও দুজন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার গাজা সিটির শেখ আজলিন এলাকায় এ হামলা চালানো হয় বলে একটি চিকিৎসা সূত্র জানিয়েছে।
চিকিৎসা সূত্রটি জানায়, গাজা সিটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের শেখ আজলিন এলাকায় পথচারীদের লক্ষ্য করে ইসরায়েলি ড্রোন হামলা চালানো হয়। এতে একজন ফিলিস্তিনি নিহত হন এবং দুজন আহত হন। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
এদিকে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, গাজা সিটির উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং উত্তর গাজার জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরের পূর্বাঞ্চলেও ইসরায়েলি বাহিনী কামান হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় ওই এলাকাগুলোতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহ ও আল-মাগাজি শরণার্থী শিবিরের পূর্বাঞ্চলেও ইসরায়েলি সামরিক যান থেকে ব্যাপক গুলিবর্ষণের খবর পাওয়া গেছে। দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসের পূর্বাঞ্চলেও ইসরায়েলি বাহিনী গুলি চালিয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে আরও জানা গেছে, গাজা সিটি ও খান ইউনিসের উপকূলীয় এলাকাতেও ইসরায়েলি গোলাবর্ষণ করা হয়েছে। ফলে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকা সত্ত্বেও গাজা উপত্যকার বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের ঘটনায় ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৩৭২ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। একই সময়ে আহত হয়েছেন আরও ৪ হাজার ৬৫৯ জন।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে প্রায় ৭৪ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ১ লাখ ৭৪ হাজারের বেশি মানুষ। দীর্ঘদিনের হামলায় গাজার প্রায় ৯০ শতাংশ অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে।
যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর থাকার মধ্যেও গাজার বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি হামলা, গোলাবর্ষণ ও গুলিবর্ষণের ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। সর্বশেষ শেখ আজলিন এলাকায় ড্রোন হামলায় হতাহতের ঘটনা যুদ্ধবিরতি পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও হামলার শব্দ ও গোলাবর্ষণের কারণে অনেক এলাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরতে পারেনি। গাজার বিভিন্ন অঞ্চলে ইসরায়েলি সামরিক তৎপরতা অব্যাহত থাকায় বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।
মঙ্গলবারের হামলাসহ সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোকে যুদ্ধবিরতি চুক্তির ধারাবাহিক লঙ্ঘন হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর ফলে গাজায় দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধবিরতি এবং বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।