জীবনের চেয়ে সময়ের মূল্য কখনোই বেশি হতে পারে না—এই মর্মান্তিক সত্যটি আরও একবার স্মরণ করিয়ে দিল জামালপুরের একটি ভয়ংকর দুর্ঘটনা। চলন্ত আন্তঃনগর ট্রেনে তাড়াহুড়ো করে দৌড়ে উঠতে গিয়ে পা পিছলে চাকায় কাটা পড়ে এ ব্যবসায়ীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। ট্রেনের চাকায় পিষ্ট হয়ে তার দেহ থেকে মাথা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকালে জামালপুর রেলওয়ে স্টেশন প্ল্যাটফর্মে যাত্রীদের চোখের সামনেই এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ওই হতভাগ্য ব্যক্তির নাম আব্দুল মালেক (৫৫)। তিনি জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ী উপজেলার বয়রা এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা। পেশাগত জীবনে তিনি একজন সার ব্যবসায়ী ছিলেন। জেলার বকশীগঞ্জ উপজেলার নঈম মিয়ার বাজারে তার একটি সারের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ব্যক্তিগত কিংবা ব্যবসায়িক কোনো প্রয়োজনে তিনি ট্রেনযোগে ঢাকায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে সকালে রেলওয়ে স্টেশনে এসেছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
জামালপুর রেলওয়ে থানা পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ৮টার দিকে দেওয়ানগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী আন্তঃনগর ‘ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি জামালপুর রেলওয়ে স্টেশনে এসে নির্ধারিত নিয়মে যাত্রাবিরতি করে। স্টেশনে নির্ধারিত সময় অপেক্ষার পর হুইসেল বাজিয়ে ট্রেনটি ধীরে ধীরে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। ট্রেনটি যখন গতি বাড়াচ্ছিল, ঠিক তখনই তাড়াহুড়ো করে দৌড়ে চলন্ত ট্রেনের হাতল ধরে বগিতে ওঠার চেষ্টা করেন আব্দুল মালেক। কিন্তু এ সময় হঠাৎ পা পিছলে প্ল্যাটফর্ম ও চলন্ত ট্রেনের মাঝখানের ফাঁকা অংশ দিয়ে লাইনের নিচে পড়ে যান তিনি।
মুহূর্তের মধ্যেই চলন্ত ট্রেনের নির্মম চাকার নিচে পড়ে যান তিনি। এতে তার শরীর থেকে মাথা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই তার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। চোখের সামনে এমন ভয়ংকর দৃশ্য দেখে স্টেশনে অপেক্ষমাণ অন্য যাত্রীরা শিউরে ওঠেন।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসে রেলওয়ে পুলিশ এবং নিহতের খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে তাদের হেফাজতে নেয়। দুপুরে দুর্ঘটনার এই মর্মান্তিক বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেন জামালপুর রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম। তিনি জানান, চলন্ত ট্রেনে দৌড়ে ওঠার মতো অসতর্কতার কারণেই পা পিছলে এই মারাত্মক দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। নিহতের মরদেহ উদ্ধারের পর এই বিষয়ে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।