বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ায় নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া জোরকদমে শুরু হয়েছে। যেকোনো সময়ে সংগঠনের নতুন কমিটি প্রকাশের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে যোগ্য ও ত্যাগী নেতাদের নিয়ে কর্মীদের মাঝে ব্যাপক চর্চা চলছে। ছাত্রদলের পরবর্তী কাণ্ডারী হিসেবে সম্ভাব্য সাধারণ সম্পাদক পদের দৌড়ে তৃণমূলের পছন্দের শীর্ষে উঠে এসেছে রাজপথের লড়াকু ও পরীক্ষিত নেতা ফারুক হোসেনের নাম।
সংগঠন সূত্রে জানা গেছে, ২০০৯-১০ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে ছাত্ররাজনীতিতে সরাসরি যুক্ত হন সাতক্ষীরার সন্তান ফারুক হোসেন। এরপর থেকে বিরোধী দলের প্রতিটি জাতীয় ও রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামে তাকে সবসময় সামনের সারিতে দেখা গেছে। দলীয় নেতাকর্মীদের ভাষ্যমতে, ২০১২ সালে তৎকালীন সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক মিছিলে অংশ নিতে গিয়ে প্রথমবারের মতো পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন তিনি। পরবর্তীতে ২০১৩, ২০১৪ ও ২০১৫ সালের টানা গণতান্ত্রিক আন্দোলনে রাজপথে সক্রিয় থেকে অসংখ্য মামলা, গ্রেপ্তার ও চরম প্রশাসনিক হয়রানির মুখোমুখি হন এই তরুণ নেতা।
সংগ্রামের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি পর্যন্ত বিরোধী দলের ডাকা দফায় দফায় টানা হরতাল ও সর্বাত্মক অবরোধ কর্মসূচিতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন ফারুক। পাশাপাশি ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক জুলাই আন্দোলনসহ নানা গণআন্দোলনে সামনের সারিতে থেকে শিক্ষার্থীদের সংগঠিত ও নেতৃত্ব দিতে দেখা গেছে তাকে। বারবার জেল-জুলুম সত্ত্বেও মূল আদর্শ থেকে বিচ্যুত না হওয়ায় ছাত্রদলের তৃণমূল ও সাধারণ নেতাকর্মীদের কাছে তার বিপুল গ্রহণযোগ্যতা ও একনিষ্ঠ সমর্থন তৈরি হয়েছে।
রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি মানবিক ও সামাজিক কল্যাণমূলক কাজের জন্যও ফারুক হোসেন প্রশংসিত। সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন ভর্তির সুযোগ পাওয়া অর্থের অভাবে অনিশ্চয়তায় পড়া তিনটি অসচ্ছল পরিবারের শিক্ষার্থীর পড়াশোনা ও ভর্তির পুরো আর্থিক দায়িত্ব তিনি নিজের কাঁধে তুলে নেন। ফারুক হোসেন জানান, অর্থাভাব যেন কোনো মেধাবী শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষার স্বপ্নপূরণে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সে লক্ষ্যেই তিনি তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং প্রয়োজনবোধে পড়াশোনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই সহযোগিতা অব্যাহত রাখবেন।
উল্লেখ্য, মেয়াদোত্তীর্ণ কেন্দ্রীয় কমিটি ভেঙে নতুন নেতৃত্বে ২০০৯-১০ থেকে ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষের সাবেক ছাত্রনেতাদের প্রাধান্য দেওয়ার জোর আলোচনা চলছে। কাউন্সিলের মাধ্যমে সরাসরি গণতান্ত্রিক ভোটাভুটিতে কিংবা দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে নতুন সাধারণ সম্পাদক মনোনীত হবেন। শেষ পর্যন্ত দলীয় হাইকমান্ডের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তেই নির্ধারিত হবে ছাত্রদলের আগামীর গতিপথ।