আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক হামলা মোকাবিলা করতে গিয়ে নজিরবিহীন আকাশ প্রতিরক্ষা সংকটে পড়েছে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম সামরিক ও অর্থনৈতিক শক্তি সৌদি আরব। দীর্ঘায়িত সংঘাতের কারণে দেশটির প্রতিরক্ষা বহরে থাকা মূল্যবান ইন্টারসেপ্টর বা প্রতিরোধক মিসাইলের মজুত প্রায় ফুরিয়ে এসেছে। এই আশঙ্কাজনক পরিস্থিতিতে দেশের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে মিত্র চার দেশের কাছে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও সামরিক সহায়তা চেয়ে জরুরি আবেদন জানিয়েছে রিয়াদ প্রশাসন।
আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) প্রকাশিত এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই সংকটের কথা তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে জানানো হয়, সম্ভাব্য বড় ধরনের সামরিক বিপর্যয় এড়াতে সৌদি আরব সম্প্রতি ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, পাকিস্তান এবং মিসরের শীর্ষ সামরিক ও কূটনৈতিক কর্তৃপক্ষের কাছে সাহায্য চেয়ে বার্তা পাঠিয়েছে। রিয়াদ অনুরোধ জানিয়েছে, এই দেশগুলো যেন তাদের নিজস্ব আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সৌদি ভূখণ্ডে সাময়িকভাবে মোতায়েন করে। এর মাধ্যমে হুথিদের ছোড়া দূরপাল্লার মিসাইল এবং বিস্ফোরকবোঝাই ড্রোন মাঝআকাশেই ধ্বংস করা সম্ভব হবে।
মূলত যেকোনো আকাশপথের হামলা প্রতিহত করতে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থেকে প্রতিরক্ষামূলক ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। তবে বছরের পর বছর ইয়েমেন থেকে আসা শত শত হামলা প্রতিহত করতে গিয়ে সৌদির ক্ষেপণাস্ত্র ভান্ডার প্রায় শূন্যের কোঠায় গিয়ে ঠেকেছে।
প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে আরও উল্লেখ করা হয়, রিয়াদের সবচেয়ে বড় সামরিক ও কৌশলগত মিত্র যুক্তরাষ্ট্রও এই মুহূর্তে তাদের কাঙ্ক্ষিত সাহায্য দিতে পারছে না। ইরানের সঙ্গে সাম্প্রতিক সামরিক দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ায় মার্কিন বাহিনীর নিজেদেরই ইন্টারসেপ্টর মিসাইলের ব্যাপক ঘাটতি দেখা দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান বাস্তবতায় ওয়াশিংটন সরবরাহ সীমিত করায় সৌদি আরব বিকল্প আন্তর্জাতিক মিত্রদের দিকে ঝুঁকতে বাধ্য হয়েছে।
এমন নিরাপত্তা সংকটের মধ্যেই অঞ্চলটিতে সামরিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে। জানা গেছে, হুথি বিদ্রোহীরা মুসলমানদের পবিত্র নগরী মক্কায় ড্রোন হামলা চালানোর অপচেষ্টা করে। তবে মক্কার আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে ড্রোনটি ধ্বংস করে সৌদি প্রতিরক্ষা বাহিনী।
যদিও হুথি বিদ্রোহীরা এই হামলার অভিযোগ একবাক্যে উড়িয়ে দিয়েছে। তাদের দাবি, মক্কায় হামলার তথ্যটি একটি 'ঘৃণ্য মিথ্যাচার' এবং সৌদি প্রশাসনের সাজানো অপপ্রচার। হুথিরা স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে, তাদের লক্ষ্য কোনো ধর্মীয় স্থান নয়; বরং সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ তেল অবকাঠামো ও সামরিক কেন্দ্রগুলোই তাদের আক্রমণের একমাত্র মূল লক্ষ্যবস্তু।
সৌদির এই চরম পরিস্থিতিতে আরব বিশ্বের অন্যান্য মিত্র দেশগুলো কেবল সহমর্মিতা প্রকাশ করেছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো দেশই সৌদিতে নিজেদের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বা সেনা পাঠাতে সম্মত হয়নি। ফলে দীর্ঘায়িত যুদ্ধের মুখে নিজেদের আকাশসীমা সুরক্ষিত রাখা নিয়ে চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছে রিয়াদ।