ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‘মক্কায় হামলা’ দাবির প্রমাণ চাইল ইরান, রাজনীতি না করার আহ্বান সৌদির অনুরোধে হুথিদের থামাতে ইরানকে চীনের গোপন চাপ ইন্টারসেপ্টর মিসাইল সংকট: মিত্রদের কাছে প্রতিরক্ষা সাহায্য চায় সৌদি কুষ্টিয়ায় পৃথক স্থানে বজ্রপাতে নিহত ২, হাসপাতালে ভর্তি ৩ রাষ্ট্র সংস্কারে বড় চ্যালেঞ্জ তোষামোদকারী চক্র ও প্রশাসনিক দুর্নীতি বন্ধ শিল্প সচল করতে ২০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ স্কিম পুলিশে বড় রদবদল: ১১ উর্ধ্বতন কর্মকর্তার বদলি ও পদায়ন লন্ত ট্রেনে দৌড়ে উঠতে গিয়ে কাটা পড়ল ব্যবসায়ীর মাথা রেস্তোরাঁয় ‘ডোরি ফিশ’ বলে পরিবেশন করা হচ্ছে পাঙাশ টিসিবি থেকে বাদ ৫৯ লাখ সুবিধাভোগী, ভর্তুকি শূন্যে নামানোর পরিকল্পনা

বন্ধ শিল্প সচল করতে ২০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ স্কিম


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ৮:৩৬ পিএম

দেশের স্তব্ধ হয়ে পড়া শিল্প ও সেবা খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করতে এবং জাতীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি ফেরাতে বড় ধরণের আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। 'বন্ধ শিল্প ও সেবা খাত সহায়ক প্রাক-অর্থায়ন স্কিম'-এর আওতায় মোট ২০ হাজার কোটি টাকার একটি নতুন তহবিল গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই প্রাক-অর্থায়ন সুবিধার মাধ্যমে অচল হয়ে পড়া শিল্প কারখানাগুলো নতুন করে চালু করার সুযোগ সৃষ্টি হবে। নতুন নীতিমালায় গ্রাহক পর্যায়ে ঋণের সর্বোচ্চ সুদহার ৭ শতাংশ নির্ধারণের পাশাপাশি উদ্যোক্তাদের জন্য রাখা হয়েছে ছয় মাসের বিশেষ 'গ্রেস পিরিয়ড' বা রেয়াতকাল সুবিধা, যার ফলে অর্থ পাওয়ার প্রথম ছয় মাস গ্রাহককে কোনো সুদ পরিশোধ করতে হবে না।


বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১ থেকে এ সংক্রান্ত একটি বিস্তারিত সার্কুলার জারি করা হয়েছে। সার্কুলারে বলা হয়, দেশে শিল্প উৎপাদন বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এই প্রাক-অর্থায়ন সুবিধা প্রদান করা হবে। নীতিমালার বিধান অনুযায়ী, এই তহবিলের অধীনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে টাকা নেওয়ার বিপরীতে ব্যাংকগুলোকে চার শতাংশ হারে সুদ দিতে হবে। তবে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর আর্থিক ব্যবস্থাপনা সহজ করতে প্রথম ছয় মাস তাদের ওপরও কোনো সুদের চাপ থাকছে না। ছয় মাসের রেয়াতকাল অতিক্রম করার পর ব্যাংকগুলোকে ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে হিসাব নিষ্পত্তি করতে হবে এবং আগের দুই ত্রৈমাসিকের বকেয়া সুদসহ কেন্দ্রীয় ব্যাংকে তা জমা দিতে হবে।


উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ী পর্যায়ে সুদের হার স্পষ্ট করে সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়, ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের কাছে সর্বোচ্চ সাত শতাংশ সুদে এই ঋণ বিতরণ করতে পারবে। ব্যবসায়ী ও শিল্প উদ্যোক্তাদের সুবিধার্থে গ্রাহক পর্যায়েও সমপরিমাণ ছয় মাসের গ্রেস পিরিয়ড কার্যকর থাকবে। অর্থাৎ ঋণ বিতরণের পর প্রথম ছয় মাস গ্রাহকের কাছ থেকে কোনো সুদ আদায় করা যাবে না। তবে রেয়াতকাল শেষ হওয়ার পর পরবর্তী কিস্তির সাথে প্রাথমিক দুই ত্রৈমাসিকের সুদের হিসাব যুক্ত করে তা আদায়ের আওতায় আনা হবে। তহবিলের প্রাপ্যতা সাপেক্ষে এই স্কিম চালুর পর থেকে আগামী তিন বছরের মধ্যে যেকোনো সময় আগ্রহী ব্যাংকগুলো প্রাক-অর্থায়নের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে আবেদন জমা দেওয়ার সুযোগ পাবে।


প্রভাবশালী এই ঋণের ছাড় ও সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে কড়া নজরদারির তাগিদ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। নীতিমালায় স্পষ্ট করা হয়েছে, বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে যেন প্রাক-অর্থায়নের অর্থ কেবলই বন্ধ বা অচল প্রতিষ্ঠান সচল করার সুনির্দিষ্ট কাজে ব্যবহৃত হয়। একই সাথে বিতরণকৃত ঋণের তদারকি ও নিয়মিত আদায়ের সার্বিক দায়ভার সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর ওপর থাকবে। ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারায় অর্পিত ক্ষমতাবলে জনস্বার্থে জারিকৃত এই আদেশ অনতিবিলম্বে কার্যকর হবে বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর