ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‘মক্কায় হামলা’ দাবির প্রমাণ চাইল ইরান, রাজনীতি না করার আহ্বান সৌদির অনুরোধে হুথিদের থামাতে ইরানকে চীনের গোপন চাপ ইন্টারসেপ্টর মিসাইল সংকট: মিত্রদের কাছে প্রতিরক্ষা সাহায্য চায় সৌদি কুষ্টিয়ায় পৃথক স্থানে বজ্রপাতে নিহত ২, হাসপাতালে ভর্তি ৩ রাষ্ট্র সংস্কারে বড় চ্যালেঞ্জ তোষামোদকারী চক্র ও প্রশাসনিক দুর্নীতি বন্ধ শিল্প সচল করতে ২০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ স্কিম পুলিশে বড় রদবদল: ১১ উর্ধ্বতন কর্মকর্তার বদলি ও পদায়ন লন্ত ট্রেনে দৌড়ে উঠতে গিয়ে কাটা পড়ল ব্যবসায়ীর মাথা রেস্তোরাঁয় ‘ডোরি ফিশ’ বলে পরিবেশন করা হচ্ছে পাঙাশ টিসিবি থেকে বাদ ৫৯ লাখ সুবিধাভোগী, ভর্তুকি শূন্যে নামানোর পরিকল্পনা

রেস্তোরাঁয় ‘ডোরি ফিশ’ বলে পরিবেশন করা হচ্ছে পাঙাশ


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ৭:৫৬ পিএম

দেশের বড় বড় শহরের অভিজাত রেস্তোরাঁয় চড়া দামে ‘ডোরি ফিশ’ হিসেবে যা পরিবেশন করা হচ্ছে, তা মূলত আমাদের বহুল পরিচিত পুকুরে চাষ হওয়া পাঙাশ মাছ। নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স বিভাগের সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এই চাঞ্চল্যকর ও অনৈতিক তথ্য উন্মোচিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং ফিশ জেনেটিকস ও কনজারভেশন বিশেষজ্ঞ ড. রাকেব-উল-ইসলামের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত বৈজ্ঞানিক ডিএনএ পরীক্ষায় এ প্রতারণার বিষয়টি ধরা পড়ে।


গবেষক ড. রাকেব-উল-ইসলাম জানান, প্রায় ছয় মাস আগে দেশে বাণিজ্যিক ডোরি মাছ আমদানির কোনো তথ্য না থাকার সংবাদ দেখার পর তারা এর বাস্তব পরিস্থিতি যাচাইয়ে গবেষণায় নামেন। ঢাকা, চট্টগ্রাম ও নোয়াখালীর অন্তত তিনটি করে অভিজাত রেস্তোরাঁ থেকে ‘ডোরি’ নামে পরিবেশন করা মাছের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরে সংগৃহীত এসব নমুনা থেকে ডিএনএ এক্সট্রাকশন, পিসিআর (PCR) পরীক্ষা এবং ডিএনএ সিকোয়েন্সিং করা হয়। ল্যাব পরীক্ষায় দেখা যায়, সংগৃহীত প্রতিটি নমুনার ডিএনএ স্ট্রাকচার প্রজাতিভিত্তিক Pangasius hypophthalmus বা চাষের পাঙাশ মাছের ডিএনএর সঙ্গে শতভাগ মিলে গেছে।


গবেষণায় বলা হয়, প্রকৃত ‘জন ডোরি’ একটি চ্যাপ্টা আকৃতির দামি সামুদ্রিক মাছ, যার শরীর ও মাংসের স্বাদে রয়েছে বৈচিত্র্য। আন্তর্জাতিক বাজারে এক কেজি আসল ডোরি মাছের দাম ৬ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে। পক্ষান্তরে, আমাদের দেশে চাষকৃত পাঙাশ মাছের প্রতি কেজির দাম মাত্র ২০০ থেকে ৫০০ টাকা। রেস্তোরাঁয় পরিবেশনের সময় মাছের মাথা, চামড়া বা কাঁটা না থাকায় এবং কেবল কিউব ফিলে পরিবেশন করায় সাধারণ গ্রাহকদের পক্ষে বাহ্যিক রূপ দেখে আসল-নকল চেনা অসম্ভব। এই সুযোগকেই কাজে লাগিয়ে ভোক্তাদের সঙ্গে প্রতারণা করছে একশ্রেণির রেস্তোরাঁ।


গবেষণায় আরও উঠে আসে, শুধু ডোরি ফিশই নয়, বিভিন্ন রেস্তোরাঁয় ‘টেংরা মাছ’ নামেও নদী থেকে ধরা পাঙাশের পোনা পরিবেশন করা হচ্ছে। পাঙাশের ছোট পোনা এভাবে বিক্রি করা হলে তা কেবল ভোক্তার সঙ্গেই প্রতারণা নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদে জলজ জীববৈচিত্র্যের ওপরও ক্ষতিকর প্রভাব ফেলবে। এ ধরনের জালিয়াতি বন্ধে এবং সাধারণ মানুষের আর্থিক অধিকার রক্ষায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ বিষয়ক সংস্থাসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে দ্রুত রেস্তোরাঁগুলোতে তদারকি ও নজরদারি বাড়াতে তাগিদ দিয়েছেন গবেষকরা।


এ সম্পর্কিত আরো খবর