আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মধ্যপ্রাচ্যে অব্যাহত সামরিক উত্তেজনা ও বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের তীব্র ঝুঁকি এড়াতে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের লাগাম টানতে ইরানকে কড়া ও গোপন বার্তা দিয়েছে চীন। সৌদি আরবের বিশেষ অনুরোধের পর বেইজিং পেছনের দরজা দিয়ে তেহরানকে এই কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টি করে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স বৃহস্পতিবার তিনটি ইরানি সূত্রের বরাতে প্রকাশিত এক বিশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথিরা অতি সম্প্রতি লোহিত সাগর ও কৌশলগত গুরুত্বসম্পন্ন বাব আল-মানদেব প্রণালীর দিকে দ্রুত অগ্রসর হতে শুরু করলে চরম উদ্বেগে পড়ে রিয়াদ। এই সামরিক অগ্রগতির ফলে সমুদ্রপথে সৌদির অপরিশোধিত তেল রপ্তানি ও নৌ-পরিবহনব্যবস্থা চরম ঝুঁকির মুখে পড়ে। উদ্ভূত সংকট মোকাবিলায় এবং জ্বালানি সরবরাহ রুট সুরক্ষিত রাখতে রিয়াদ সরাসরি বেইজিংয়ের শরণাপন্ন হয়।
বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি ও শীর্ষ জ্বালানি আমদানিকারক হিসেবে চীন প্রকাশ্যে সব পক্ষকে সংযম ও আলোচনার আহ্বান জানালেও তেহরানকে দেয়া তাদের বার্তাটি ছিল বেশ কড়া। বেইজিং স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে, আন্তর্জাতিক যে জলপথগুলোর ওপর চীনের নিজস্ব জ্বালানি নিরাপত্তা ও বাণিজ্য নির্ভর করে, সেগুলোতে সংঘাত বাড়ানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাই হুথিদের ওপর নিজেদের সমস্ত সামরিক ও কূটনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তাদের থামানোর তাগিদ দিয়েছে বেইজিং।
তবে চীনা সতর্কবার্তার জবাবে তেহরান জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা মূলত মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলা বন্ধ হওয়ার ওপর নির্ভর করছে। সম্প্রতি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির চীন সফরকালে বিষয়টি সরাসরি উত্থাপিত হয়েছিল কি না তা স্পষ্ট নয়।
বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তেহরানের ওপর চাপ সৃষ্টির অনন্য ক্ষমতা রয়েছে বেইজিংয়ের। কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ইরানের সমুদ্রপথে রপ্তানি করা অপরিশোধিত তেলের ৮০ শতাংশের বেশি (দৈনিক গড়ে প্রায় ১৪ লাখ ব্যারেল) কিনেছে চীন। ওয়াশিংটনের মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউটের ইরান প্রোগ্রামের পরিচালক অ্যালেক্স ভাতানকা জানান, মধ্যপ্রাচ্য থেকে চীনের মোট তেল আমদানির প্রায় অর্ধেক আসে এবং জিসিসিভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে চীনের বার্ষিক বাণিজ্য ৩০০ বিলিয়ন ডলার।
ইরান ইতোমধ্যেই কৌশলগত হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ করায় বিশ্বজুড়ে বড় ধরনের জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে। এখন হুথিরা লোহিত সাগরে নতুন করে হামলা চালালে তা একইসঙ্গে বিশ্বের দুটি প্রধান তেল পথ স্তব্ধ করে দেবে, যা শেষ পর্যন্ত চীনের অর্থনীতিকেই আঘাত করবে। ফলে নিজেদের অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় তেহরানের ওপর এই বাণিজ্যিক প্রভাব খাটাতে বাধ্য হচ্ছে বেইজিং।