আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথিদের অব্যাহত ড্রোন ও মিসাইল হামলা এবং কৌশলগত তেল শোধনাগারগুলোতে ক্রমবর্ধমান হুমকির মুখে সৌদি আরবের নিরাপত্তার প্রশ্নে নিজেদের স্পষ্ট ও অনড় অবস্থান প্রকাশ করেছে পাকিস্তান। বন্ধুপ্রতিম রিয়াদ প্রশাসনের ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা ও নিরাপত্তা সুরক্ষায় স্বাক্ষরিত সামরিক চুক্তির প্রতি নিজেদের শতভাগ অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করার পাশাপাশি হুথিদের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য যেকোনো সামরিক পদক্ষেপ গোপন রাখার কৌশলগত ইঙ্গিত দিয়েছে ইসলামাবাদ।
বৃহস্পতিবার রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত নিয়মিত এক সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সাজ্জাদ হায়দার খান আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে এ গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন। সৌদি আরবের সঙ্গে পাকিস্তানের বিদ্যমান প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে পাকিস্তান সরাসরি যৌথ সামরিক অভিযানে অংশ নেবে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের সরাসরি জবাবে তিনি জানান, সৌদির প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে গৃহীত চুক্তিসমূহ বাস্তবায়নে পাকিস্তান পুরোপুরি প্রতিশ্রুতবদ্ধ রয়েছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে উল্লেখ করেন, কৌশলগত সামরিক সুবিধা এবং সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থেই হুথিদের বিরুদ্ধে যদি কোনো ধরনের সশস্ত্র পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়, তবে তা গোপন রাখা হবে।
একই সাথে লোহিত সাগরের বাণিজ্যিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ বাব এল-মান্দেব প্রণালির আশপাশে সব ধরনের সামরিক তৎপরতা অবিলম্বে বন্ধ করার জন্য হুথি নেতৃত্বের প্রতি আহ্বান জানান পাকিস্তানের এই জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক। তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান জটিল আঞ্চলিক দ্বন্দ্ব ও রক্তক্ষয়ী সংঘাতগুলোর স্থায়ী সমাধানের ক্ষেত্রে ইসলামাবাদ সর্বদা দ্বিপাক্ষিক আলোচনা ও কূটনৈতিক মধ্যস্থতাকে সমর্থন জানায়।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে 'মক্কা চুক্তি' নামে একটি প্রভাবশালী ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তির মূল শর্ত অনুযায়ী, এই তিন মিত্র দেশের যেকোনো একটির ওপর কোনো বহিরাগত সশস্ত্র আক্রমণ পরিচালিত হলে তা বাকি দুই দেশের ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য করা হবে। সম্প্রতি হুথিরা সৌদির তেল অবকাঠামো লক্ষ্য করে ধারাবাহিকভাবে হামলা জোরদার করায় চুক্তিটির সামরিক প্রয়োগ নিয়ে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম 'পাকিস্তান অবজারভার'-এর প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই মাস আগে ইয়েমেনের রাজধানী সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলা চালায় সৌদি সামরিক বাহিনী। সেখানে ইরান থেকে আগত কয়েকজন জ্যেষ্ঠ হুথি নেতাকে বহনকারী একটি উড়োজাহাজকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল। এই ঘটনায় চরম ক্ষুব্ধ হয়ে হুথিরা লোহিত সাগরে সৌদি আরোপিত নৌ-অবরোধ প্রত্যাহারের দাবি জানায় এবং পরবর্তীতে কৌশলগত জলপথটির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দখলে নিয়ে নেয়। সংঘাতময় এই প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানি নেতৃত্বের প্রতিক্রিয়া মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক রাজনীতিতে নতুন এক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।