ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬,  ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
স্পেনে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা: নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৪, আহত ৮০ ঢামেকে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ধর্মঘট ৭ দিনের জন্য স্থগিত ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: ১৮৫ কেন্দ্রের মধ্যে ১১৫টিই অধিক ঝুঁকিপূর্ণ প্রগতির আড়ালে নৈতিক দেউলিয়া সমাজ: বিশ্ব যখন শেখায়, আমরা তখন পিছিয়ে সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ১ রান দূরে সাদমান, প্রথম দিনে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২১৩ স্পেনে দ্রুতগতির দুই ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত অন্তত ৪৬ দেশে ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৯ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৯৮২ জাপানের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বড় বিনিয়োগের উদাত্ত আহ্বান তারেক রহমানের বাউফলে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শ্রেণিকক্ষে কিন্ডারগার্টেন ও দুর্নীতির অভিযোগ ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচন ঘিরে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে ইসি

২৮ বছরের ইতিহাসে প্রথম: দলীয় প্রতীক জোড়াফুল হারালেন মমতা


  • আপলোড সময় : শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ৩:২৬ পিএম

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এক অভূতপূর্ব ও ঐতিহাসিক মোড় ঘুরল। দীর্ঘ ২৮ বছরের পথচলায় এই প্রথম কোনো নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে দলীয় প্রতীক 'জোড়াফুল' ছাড়াই ভোটের ময়দানে নামতে হচ্ছে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসকে। আসন্ন রেজিনগর ও নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজ হাতে আঁকা এই বিখ্যাত প্রতীকের ব্যবহারের ওপর সাময়িক স্থগিতাদেশ জারি করেছে ভারতের নির্বাচন কমিশন।


দলীয় অভ্যন্তরীণ চরম কোন্দল ও ভাঙনের জেরেই মূলত এই নজিরবিহীন সংকটের সৃষ্টি। বিদ্রোহী তৃণমূল নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুসারীরা নিজেদের 'প্রকৃত তৃণমূল' দাবি করে জোড়াফুল প্রতীকের মালিকানা চেয়ে নির্বাচন কমিশনে আবেদন জানান। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত বৃহস্পতিবার রাতে কমিশন এক নির্দেশনায় স্পষ্ট জানায়, দলের প্রকৃত নিয়ন্ত্রক কে, মূল তৃণমূল কংগ্রেস কোনটি এবং দলীয় সম্পদের মালিকানা কার হাতে থাকবে— এসব আইনি প্রশ্নের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কোনো পক্ষই এই প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে না।


কমিশনের এ আদেশের ফলে আগামী ৬ অক্টোবরের উপনির্বাচনে মমতাপন্থী কিংবা ঋতব্রতপন্থী— কোনো শিবিরের প্রার্থীরাই তাদের চিরাচরিত জোড়াফুল প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারছেন না। শুধু তা-ই নয়, 'সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস' নামটিও আপাতত কোনো গোষ্ঠী ব্যবহার করতে পারবে না। দুই শিবিরকেই নির্বাচন কমিশনের সংরক্ষিত তালিকা থেকে নতুন ও পৃথক প্রতীক নির্বাচন করে লড়াইয়ে নামতে হবে। তবে কমিশন এটিকে চূড়ান্ত রায় হিসেবে উল্লেখ করেনি; সার্বিক পর্যালোচনার পর ভবিষ্যতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হবে বলে জানানো হয়েছে।


এই রাজনৈতিক জটিলতার সূচনা হয় গত ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর। ওই নির্বাচনে ২৯৪টি আসনের মধ্যে তৃণমূল ৮০টিতে জয়ী হয়েছিল। তবে ফল প্রকাশের পরপরই দলের প্রভাবশালী নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বিদ্রোহ ঘোষণা করেন এবং ৮০ জন নির্বাচিত বিধায়কের মধ্যে ৫৮ জনই তাঁর দিকে অবস্থান নেন। বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ঋতব্রত। সেই থেকেই মূলত কালীঘাট ও বিদ্রোহী শিবিরের মধ্যকার মালিকানার লড়াই গড়ায় নির্বাচন কমিশন পর্যন্ত।


উল্লেখ্য, ১৯৯৮ সালের ১ জানুয়ারি ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস ত্যাগ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন নতুন দল গঠন করেন, তখন তিনি নিজে স্কেচ করে সাধারণ মানুষের প্রতীক হিসেবে এই জোড়া ঘাসফুল এঁকেছিলেন। টানা তিন দশক ধরে যা ছিল তাঁর রাজনীতির প্রধান পরিচয়, সেই প্রতীক হাতছাড়া হওয়া মমতাপন্থী শিবিরের জন্য বড় ধরনের ধাক্কা হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।


এ সম্পর্কিত আরো খবর