আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আগামী সপ্তাহে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিতব্য জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগদানের লক্ষ্যে ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি এবং বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক কর্মকর্তাকে প্রবেশের অনুমতিপত্র বা ভিসা মঞ্জুর করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র আনুষ্ঠানিকভাবে এই সিদ্ধান্তের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। দুই দেশের মধ্যবর্তী দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক চরম অচলাবস্থা ও সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে আয়োজক রাষ্ট্র হিসেবে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক আইন ও বাধ্যবাধকতা মেনে চলার অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নিয়েছে ওয়াশিংটন।
আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই কর্মকর্তা জানান, জাতিসংঘের নীতিমালা অনুযায়ী আয়োজক দেশ হিসেবে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের স্বীকৃত প্রতিনিধিদের সাধারণ অধিবেশনে যোগদানের সুযোগ নিশ্চিত করা যুক্তরাষ্ট্রের দায়িত্ব। সেই বাধ্যবাধকতার সাথে সামঞ্জস্য রেখেই ইরানি সরকারের মূল প্রতিনিধিদলকে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের মূল সেশনগুলোতে অংশগ্রহণের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। তবে আন্তর্জাতিক নিয়মানুযায়ী প্রবেশের সুযোগ পেলেও অন্য দেশের কূটনীতিকদের মতো মার্কিন ভূখণ্ডে নির্বিঘ্নে চলাচলের স্বাধীনতা পাবেন না তারা।
মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জাতিসংঘ সফরের সময় ইরানি প্রতিনিধি দলকে বেশ কয়েকটি বিশেষ ও কঠোর শর্ত মেনে চলতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশাধিকার পাবে অত্যন্ত সীমিত আকারের একটি নির্দিষ্ট প্রতিনিধি দল। একই সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সীমানার ভেতর তাদের দৈনন্দিন যাতায়াত ও ভ্রমণ নির্দিষ্ট একটি ভৌগোলিক অঞ্চলের মধ্যে কঠোরভাবে সীমাবদ্ধ রাখা হবে। এছাড়া প্রতিনিধি দলের সদস্যদের ওপর বিলাসবহুল কোনো পণ্যসামগ্রী কেনাকাটার ক্ষেত্রেও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার অংশ হিসেবে কড়াকড়ি বহাল থাকবে।
ইরানি কর্মকর্তাদের ভিসার বিষয়টি নিশ্চিত করা হলেও ভিন্ন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্র সফরের জন্য ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট ভিসা আবেদন করলেও মার্কিন প্রশাসন তা অনুমোদন করতে অস্বীকৃতি জানায়। ফলে সশরীরে সেশনে উপস্থিত থাকার অনুমতি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তিনি। এই জটিলতা নিরসনে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট যদি নির্ধারিত সময়ে তার বক্তব্য সংবলিত কোনো ভিডিও বার্তা পাঠান, তবে অধিবেশন চলাকালে বৈশ্বিক মঞ্চে তা বিশ্বনেতাদের সামনে প্রচার করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আকাশজমিন / আরআর