আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামে বৈধ কাগজপত্র ছাড়া অবস্থানের অভিযোগে নারী ও শিশুসহ অন্তত ২৭ জন বাংলাদেশিকে আটক করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। রাজধানী গুয়াহাটি এবং কামরূপ জেলার রঙ্গিয়া শহর থেকে দুটি পৃথক অভিযানে তাদের গ্রেফতার করা হয়। ভারতের প্রবেশের অনুমতিপত্র কিংবা ভ্রমণের বৈধ কোনো নথিপত্র সঙ্গে না থাকায় তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। রাজ্য পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে, আনুষঙ্গিক আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে আটককৃত সকল বাংলাদেশিকে দ্রুত নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম 'এনডিটিভি'-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আসাম সীমান্ত পুলিশের উপ-কমিশনার কুলেন্দ্রনাথ ডেকা জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার গুয়াহাটি এবং রঙ্গিয়া এলাকায় এই চিরুনি অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের শুরুতে গুয়াহাটির আসাম স্টেট ট্রান্সপোর্ট করপোরেশন (এটিসিটি) টার্মিনাল চত্বর থেকে ১২ জন বাংলাদেশিকে আটক করে পুলিশ। পরবর্তীতে তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের মুখে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। আটককৃতরা স্বীকার করেন যে, তাদের দলের অপর একটি গ্রুপ জম্মু-তাবি এক্সপ্রেস ট্রেনে করে জম্মু-কাশ্মীরের দিকে যাত্রা করেছে।
তাত্ক্ষণিকভাবে এই তথ্য পাওয়ার পর সীমান্ত পুলিশ কালবিলম্ব না করে রেলওয়ে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে যৌথ পদক্ষেপ গ্রহণ করে। প্রয়োজনীয় তথ্য আদান-প্রদানের পর ট্রেনটির অবস্থান শনাক্ত করা হয় এবং কামরূপ জেলার রঙ্গিয়া স্টেশনের সন্নিকটে ট্রেনটি থামিয়ে বাকি ১৫ জন বাংলাদেশিকে গ্রেফতার করা হয়। এই নিয়ে দুটি পৃথক স্থান থেকে আটক বাংলাদেশির সংখ্যা দাঁড়ায় মোট ২৭ জনে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আটক এই বাংলাদেশিরা বাংলাদেশের ঢাকা, সুনামগঞ্জ, গোপালগঞ্জ, বাগেরহাট, খুলনা এবং ময়মনসিংহ জেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা। কাজের খোঁজে সীমান্ত অতিক্রম করে তারা ভারতে গিয়েছিলেন বলে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। আসাম সীমান্ত পুলিশের কর্মকর্তা কুলেন্দ্রনাথ ডেকা জানান, বৈধ নথিপত্র না থাকায় তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট আইনে মামলা করা হয়েছে। একই সঙ্গে যেসব দালালচক্র বা পাচারকারী অবৈধ উপায়ে তাদের ভারতে প্রবেশ করতে সহায়তা করেছে, তাদের চিহ্নিত করে মূল হোতাদের আইনের আওতায় আনতে সাঁড়াশি অভিযানের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
আকাশজমিন / আরআর