ইয়েমেনের
উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় কৌশলগত মারিব প্রদেশের রাজধানী মারিব সিটির কাছে দেশটির সেনাবাহিনী ও ইরান-সমর্থিত
হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে ২৪ ঘণ্টার রক্তক্ষয়ী
সংঘাত হয়েছে। এতে অন্তত ৮০ জনেরও বেশি
হুথি যোদ্ধা নিহত হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে ইয়েমেনি সামরিক বাহিনী। ইয়েমেনি সেনাবাহিনীর মিডিয়া বিভাগের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া আল-হাতেমি সৌদি
আরবভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আরব নিউজ-কে দেওয়া এক
সাক্ষাৎকারে এই তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি
জানান, শনিবার রাত থেকে রোববার রাত পর্যন্ত চলা এই ভয়াবহ লড়াইয়ে
হুথিদের তীব্র আক্রমণ সফলভাবে প্রতিহত করেছে সেনাবাহিনী। সংঘাতে হুথিদের ৮০ জনের বেশি
সদস্য নিহত হওয়ার পাশাপাশি তাদের অন্তত ৯টি সামরিক যান ধ্বংস করা হয়েছে এবং বাকি বিদ্রোহীরা রণক্ষেত্র ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। রক্তক্ষয়ী এই মুখোমুখি সংঘাতের
পাশাপাশি পুরো মারিব প্রদেশজুড়ে হুথিদের সামরিক আস্তানা ও সেনা সমাবেশকে
লক্ষ্য করে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের বিমান বাহিনী। তবে এই অভিযানে সরকারি
বাহিনীর নিজস্ব ক্ষয়ক্ষতির কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
উল্লেখ্য,
প্রায় এক দশক আগে
শুরু হওয়া গৃহযুদ্ধে গৃহহীন হওয়া লাখ লাখ মানুষের প্রধান আশ্রয়স্থল এখন এই মারিব প্রদেশ।
উত্তর ইয়েমেন হুথিদের দখলে চলে যাওয়ার পর বাস্তুচ্যুত অন্তত
২০ লাখ মানুষ বর্তমানে এখানকার বিভিন্ন শরণার্থী শিবিরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। মারিব প্রদেশের অধিকাংশ অঞ্চল হুথিরা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে পারলেও রাজধানী মারিব সিটি এখনো সরকারি বাহিনীর অধীনেই রয়েছে। কৌশলগত এই শহরটি দখলের
জন্য হুথিরা বারবার বড় ধরনের অভিযান চালালেও প্রতিবারই বিপুল প্রাণহানির মুখে তাদের পিছু হটতে হয়েছে।
জাতিসংঘের
মধ্যস্থতায় ২০২২ সালে ঘোষিত যুদ্ধবিরতির পর দীর্ঘ সময়
ধরে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত থাকলেও, গত জুলাইয়ের শেষ
ভাগ থেকে পুনরায় এই রক্তক্ষয় তীব্র
রূপ নেয়। বর্তমানে সৌদি সমর্থিত ইয়েমেনি সেনাদলের সঙ্গে জায়েদি শিয়াদের এই সশস্ত্র গোষ্ঠীটির
সংঘাত চরম আকার ধারণ করেছে। আন্তর্জাতিক বার্তাসংস্থা এএফপি-র তথ্যমতে, সম্প্রতি
ইয়েমেনের সানা, আমরান ও হোদেইদায় অন্তত
৫০ জন হুথি সেনা
ও কর্মকর্তার সামরিক সৎকার বা জানাজা সম্পন্ন
হয়েছে।
তবে
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আল-হাতেমির দাবি,
নিজেদের বাহিনীর ভেঙে পড়া মনোবল ধরে রাখতে হুথিরা যুদ্ধক্ষেত্রের প্রকৃত নিহতের খবরের মাত্র ১০ শতাংশের কম
প্রকাশ্যে স্বীকার করে। তার মতে, বাস্তবে প্রতিদিন গড়ে ৩০০ থেকে ৫০০ হুথি যোদ্ধা নিহত হচ্ছে। বিদ্রোহীরা তাদের সাধারণ যোদ্ধাদের স্রেফ রাজনৈতিক লক্ষ্য হাসিলের হাতিয়ার এবং মূল্যহীন ক্রীতদাসের মতো ব্যবহার করছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
(সূত্র:
আরব নিউজ ও এএফপি)