তেহরান
ও প্যারিসের মধ্যকার বিদ্যমান কূটনৈতিক টানাপোড়েন এবার পৌঁছাল নতুন এক উত্তেজনাকর মোড়ে।
বেআইনি কর্মকাণ্ড ও বিতর্কিত অপতৎপরতায়
লিপ্ত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে ফরাসি দূতাবাসের নিয়ন্ত্রণাধীন একটি প্রভাবশালী ভাষা শিক্ষা কেন্দ্র পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। দেশটির বিচার বিভাগীয় সিদ্ধান্ত ও আদালতের আদেশের
ভিত্তিতে এই কঠোর পদক্ষেপ
নেওয়া হয়েছে। আদালতের নির্দেশনার বিষয়টি নিশ্চিত করে বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টিকারী এই প্রতিবেদনটি প্রকাশ
করেছে ইরানের বিচার বিভাগীয় সংবাদমাধ্যম মিজান।
তেহরানের
প্রসিকিউটর কার্যালয়ের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানায়, 'ফরাসি ভাষা শিক্ষা কেন্দ্র' (সিএলএফ) বছরের পর বছর ধরে
কেবল ভাষা প্রশিক্ষণের আড়ালে তাদের বিতর্কিত কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল। তবে তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, প্রতিষ্ঠানটি ভাষা শিক্ষালয় হিসেবে প্রাপ্ত বিশেষ কূটনৈতিক মর্যাদার চরম অপব্যবহার করেছে। শুধু তাই নয়, আন্তর্জাতিক সকল কূটনৈতিক নীতি ও দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা
লঙ্ঘন করে তারা একটি অবৈধ নেটওয়ার্ক গড়ে তোলে।
আদালতে
উত্থাপিত অভিযোগে প্রকাশ পায়, কেন্দ্রটি মূলত ইরানের আন্তর্জাতিক মানের মেধাবী নাগরিক ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের
সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করত। পরবর্তীতে তাদের নিজস্ব গোপন জালে যুক্ত করে দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরি করা এবং তাদের দেশত্যাগে সরাসরি সহায়তা করার মতো নজিরবিহীন অপতৎপরতায় লিপ্ত ছিল। দেশটির নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার্থেই
ফরাসি প্রতিষ্ঠানটির যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক
মাসগুলোতে ইরান ও ফ্রান্সের দ্বিপাক্ষিক
সম্পর্কের মধ্যে চরম শীতলতা ও অনিশ্চয়তা বিরাজ
করছে। ইতিপূর্বে ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে সরাসরি হস্তক্ষেপের অভিযোগে ফ্রান্সে নিযুক্ত দুই ইরানি কূটনীতিককে বহিষ্কার করে প্যারিস প্রশাসন। এর আগে ইরানে
দায়িত্বরত দুই ফরাসি প্রতিনিধিকে সাময়িকভাবে আটক করে তাদের ওপর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল তেহরান সরকার।
ফ্রান্সের
ওই পাল্টা বহিষ্কারের জের ধরেই এবার ফরাসি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিল তেহরান। ভাষা শিক্ষালয়টি বন্ধ করে দেওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের এই প্রভাবশালী দেশটির
সঙ্গে ইউরোপীয় পরাশক্তি ফ্রান্সের মধ্যকার ঐতিহাসিক সাংস্কৃতিক ও সামাজিক যোগাযোগ
পথগুলো পুরোপুরি অবরুদ্ধ হয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। (সূত্র: এএফপি)