ইউক্রেনীয় ড্রোন ও নজিরবিহীন সাইবার হামলার রক্তচক্ষু উপেক্ষা করেই রাশিয়ার পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ 'স্টেট দুমা'র নির্বাচনে একচেটিয়া বিজয়ের পথে রয়েছে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নেতৃত্বাধীন শাসকদল 'ইউনাইটেড রাশিয়া পার্টি'। যুদ্ধের দীর্ঘ উত্তেজনার মধ্যেই অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনের ভোট গণনায় পুতিনের দল প্রতিপক্ষকে বড় ব্যবধানে পেছনে ফেলে নিরঙ্কুশ জয়ের দ্বারপ্রান্তে অবস্থান করছে।
রাশিয়ার কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ ও বেসরকারি সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত গণনাকৃত মোট ভোটের প্রায় ৫৭ দশমিক ৫ শতাংশ অর্জন করেছে ইউনাইটেড রাশিয়া পার্টি। স্টেট দুমার মোট ৪৫০টি আসনের অধিকাংশেই এগিয়ে রয়েছেন সরকারি দলীয় প্রার্থীরা। চার বছর আগে ইউক্রেন-রাশিয়া পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এই প্রথম দেশটিতে নিম্নকক্ষের সংসদীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। তবে বিরোধী শিবির ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের দাবি, যুদ্ধবিরোধী রাজনৈতিক দল ও তাদের প্রার্থীদের এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ দেওয়া হয়নি। এমনকি বিরোধী দল 'ইয়াবলোকো'-র প্রার্থীদের অনেকে নির্বাচন চলাকালীন নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, কেননা যুদ্ধের সমালোচনার দায়ে ভোটের আগেই দলটির দুই শীর্ষ নেতাকে দীর্ঘমেয়াদী কারাদণ্ড প্রদান করেন আদালত।
অন্যদিকে তিন দিনব্যাপী এই ভোটাভুটি চলাকালেই গত ১৯ সেপ্টেম্বর রাত থেকে ২০ সেপ্টেম্বর ভোর পর্যন্ত মস্কোসহ রাশিয়ার একাধিক অঞ্চলে অভূতপূর্ব ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইউক্রেনীয় বাহিনী। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কেবল রাজধানী মস্কো লক্ষ্য করেই মোট ৪৫০টি ড্রোন ছোঁড়া হয়—যাকে দুমার আসনসংখ্যার সমন্বয়ে তৈরি সুনির্দিষ্ট কৌশল বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রতিরক্ষা বাহিনীর শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অধিকাংশ ড্রোন ও ৮টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করতে সক্ষম হলেও কিছু ড্রোনের আঘাতে মস্কোতে ২ জন নিহত হয়েছেন। সব মিলিয়ে ওই সময়ে রাশিয়াজুড়ে ইউক্রেনের প্রায় ২ হাজার ড্রোন হামলার তথ্য নিশ্চিত করেছে প্রতিরক্ষা দপ্তর।
কেবল সামরিক বিমান হামলা নয়, ১৮ থেকে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাশিয়ার গোটা ডিজিটাল ভোটগ্রহণ ব্যবস্থার ওপর কয়েক দফা মারাত্মক সাইবার হামলা চালায় ইউক্রেনীয় হ্যাকাররা। অবশ্য সমস্ত প্রযুক্তিগত বাধা অতিক্রম করে সফলভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। কমিশনের চেয়ারওম্যান এল্লা পামফিলোভা মন্তব্য করেন, প্রতিপক্ষের এই চাপ রাশিয়ার সাধারণ জনগণের ঐক্যকে আরও সুদৃঢ় করেছে। পাশাপাশি রাশিয়ান সিকিউরিটি কাউন্সিলের ভাইস-চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ এই জয়কে সম্মানজনক আখ্যা দিয়ে বলেন, এই ফলাফল প্রমাণ করে যে দেশের মানুষ আবারও পুতিনের দলীয় নেতৃত্বের ওপরই পূর্ণ আস্থা রেখেছে। (সূত্র: রয়টার্স)