নড়াইলে আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপনের ফাঁদ পেতে সাধারণ মানুষের অর্থ হাতিয়ে নেওয়া এবং দেশবিরোধী সাইবার অপতৎপরতার মাধ্যমে অবৈধ অনলাইন বেটিং পরিচালনার অভিযোগে সক্রিয় এক সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের মূলহোতাসহ ৯ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। লোহাগড়া উপজেলার একটি চিকিৎসাসামগ্রীর দোকানে গোপন তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ঝটিকা অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে জুয়া ও প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত একাধিক ডিজিটাল ডিভাইস উদ্ধার করা হয়েছে, যেগুলোতে বিপুল অঙ্কের অবৈধ ই-লেনদেন ও নিষিদ্ধ জুয়ার প্ল্যাটফর্ম সচল রাখার চাঞ্চল্যকর তথ্য মিলেছে। সোমবার নড়াইলের পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে এই সাফল্য ও বিস্তারিত তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে জেলা পুলিশ প্রশাসন।
পুলিশ ও ডিবি সূত্রে জানা যায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে লোহাগড়া উপজেলার ঝামারঘোপ বাজারে অবস্থিত ‘মা ফার্মেসি’তে একটি চৌকস অভিযান পরিচালনা করে গোয়েন্দা পুলিশের প্রতিনিধি দল। সেখান থেকে অসাধু ব্যবসার আড়ালে অপরাধের নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা ফার্মেসির মালিক ফরহাদ হোসেন এবং তার অন্যতম প্রধান সহযোগী সজীব হোসেনকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে তাদের দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ওই চক্রের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত আরও সাত সদস্যকে পুলিশের জালে তোলা হয়। ফলে অভিযানটি সফলতার মুখ দেখে এবং মোট ৯ জন অনলাইন জুয়াড়ি ও ডিজিটাল প্রতারককে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়।
অভিযান চলাকালে আসামিদের হেফাজত থেকে অপরাধে ব্যবহৃত একাধিক আধুনিক স্মার্টফোন ও মেমোরি ডিভাইস জব্দ করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া এসব ডিভাইস পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে ‘ওয়ান এক্স বেট’, ‘মেল বেট’, ‘সিকে ৪৪.কম’ এবং ‘এফ১১’-এর মতো আন্তর্জাতিক ও বাংলাদেশে নিষিদ্ধ বিভিন্ন অনলাইন জুয়া ও বেটিং প্ল্যাটফর্ম নিয়মিত ব্যবহার করছিল। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রকমারি চটকদার ও লোভনীয় বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে তারা সাধারণ মানুষদের রাতারাতি বিপুল অর্থ আয়ের মিথ্যা প্রলোভন দিয়ে আসছিল। ফলে সাধারণ মানুষ তাদের ফাঁদে পা দিয়ে চরম আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছিল। উদ্ধার করা ডিভাইসগুলোতে বিপুল অঙ্কের ডিজিটাল ই-লেনদেনের অকাট্য তথ্যপ্রমাণ সংরক্ষিত রয়েছে।
এ বিষয়ে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় নড়াইল পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সার্বিক তথ্য তুলে ধরেন পুলিশ সুপার আল মামুন সিকদার। তিনি জানান, অনলাইনভিত্তিক অপকর্ম ও জুয়ার বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জিরো টলারেন্স অভিযান আগামীতে আরও জোরদার করা হবে। সেই সঙ্গে ইন্টারনেটে কোনো প্রলোভনমূলক বিজ্ঞাপন বা স্বল্প পরিশ্রমে দ্বিগুণ আয়ের চটকদার আশ্বাসে বিভ্রান্ত না হয়ে সাধারণ মানুষকে সব ধরনের আর্থিক লেনদেনে সর্বোচ্চ সচেতনতা ও সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানান তিনি। আটককৃত ৯ জনের বিরুদ্ধে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট থানায় নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে এবং তাদের বিচারে আদালতের মুখোমুখি করার আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।