যশোরের অভয়নগরে বহুল আলোচিত বাহারুল মল্লিক নির্মম হত্যা মামলার জট খুলতে বড় সাফল্য অর্জন করেছে পুলিশ প্রশাসন। ঘটনার পর থেকে টানা ১৩ দিন নিরবচ্ছিন্ন গোয়েন্দা নজরদারি ও ধারাবাহিক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেওয়া রমজান নামে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পরবর্তীতে তার দেওয়া চাঞ্চল্যকর তথ্য ও দেখানো স্থান থেকে প্রতিবেশী খুলনা জেলার ফুলতলা থানার একটি বাগানের মাটির নিচ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ১টি ৭.৬৫ ক্যালিবারের পিস্তল, ১টি লোহার তৈরি ওয়ান শুটারগান এবং ৭ রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করতে সক্ষম হন তদন্তকারীরা।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বেলা দেড়টায় যশোর জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ প্রেস ব্রিফিংয়ে অভিযানের বিস্তারিত তুলে ধরেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিরাজুল ইসলাম। তিনি জানান, গত ৭ সেপ্টেম্বর অভয়নগর থানার বাশুয়াড়ী পুলিশ ক্যাম্পের নিয়ন্ত্রণাধীন রানাগাতী এলাকার একটি নির্জন বাগানে দুষ্কৃতকারীরা খুব কাছ থেকে গুলি চালিয়ে বাহারুল মল্লিককে হত্যা করে লাশ ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। ওই বর্বরোচিত ঘটনার পরদিন নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভয়নগর থানায় সুনির্দিষ্ট একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হলে পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্তে নামে।
তদন্ত কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ শুরু করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা এবং গোপন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত ১০ সেপ্টেম্বর ঘটনায় সরাসরি যুক্ত আশরাফুল আশা ওরফে আশরাফকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ ও তথ্য যাচাইয়ের পর তদন্তে নতুন গতি আসে। এর সূত্র ধরে দীর্ঘ ১৩ দিন ধরে যশোর ও পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন এলাকায় টানা অভিযান পরিচালনা করে গত ২০ সেপ্টেম্বর অপরাপর অভিযুক্ত রমজানকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশের টিম।
গ্রেপ্তারকৃত রমজান খুলনা জেলার ফুলতলা থানার দক্ষিণডিহি এলাকার বাসিন্দা মিনারুল ইসলামের ছেলে। গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেওয়ার কথা স্বীকার করে এবং অস্ত্র লুকিয়ে রাখার স্থান দেখিয়ে দিতে সম্মত হয়। পরবর্তীতে তার দেওয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী খুলনার ফুলতলা থানাধীন দক্ষিণডিহি গ্রামের সোহবান সরদারের বাগানের পশ্চিম কোণে মাটির নিচে সতর্কতার সঙ্গে পুঁতে রাখা অবস্থায় একটি ৭.৬৫ পিস্তল, একটি লোহার তৈরি ওয়ান শুটারগান এবং সাত রাউন্ড অব্যবহৃত তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্মম এই হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উন্মোচন ও অভিযুক্ত অন্যদের গ্রেপ্তারে চিরুনি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।