শেরপুরের শ্রীবরদীতে রোববার সকালে বন্ধুর সঙ্গে মাছ ধরতে বের হয়ে নিখোঁজ হওয়া এক তরুণের রহস্যজনক ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিখোঁজের একদিন পর সোমবার সকালে উপজেলার কুড়িকাহনীয়া ইউনিয়নের নলিয়ারপাড় এলাকার একটি পুকুর থেকে ওই যুবকের নিথর দেহ ভেসে উঠতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
মর্মান্তিক এই ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার পেছনে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বা রহস্য রয়েছে কি না, তা উদঘাটনে নিহতের সঙ্গে শেষবার বের হওয়া অপর এক তরুণকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিহতের পরিবার ও পুরো এলাকা জুড়ে চরম শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহত ওই যুবকের নাম কালু মিয়া (২০)। সে উপজেলার কুড়িকাহনীয়া ইউনিয়নের কালীবাড়ি এলাকার বাসিন্দা মন্টু মিয়ার ছেলে। এ ঘটনায় পুলিশ একই এলাকার কমলউদ্দিনের ছেলে বাদশা মিয়া (২১) নামের এক তরুণকে আটক করেছে। স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার সকালে মাছ ধরার কথা বলে একই এলাকার বাসিন্দা বাদশা মিয়ার সঙ্গে বাড়ি থেকে বের হন কালু মিয়া। তবে দিন গড়িয়ে সন্ধ্যা নামলেও কালু আর ঘরে ফিরে আসেননি।
এতে নিহতের পরিবারের মনে চরম উদ্বেগের সৃষ্টি হয়। রাতভর পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি চালিয়েও তাঁর কোনো সন্ধান মেলাতে পারেননি। পরদিন সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে নলিয়ারপাড় এলাকার হাশেম হাজির পুকুরে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়দের মাঝে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে স্বজনেরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভাসমান মরদেহটি কালু মিয়ার বলে শনাক্ত করেন।
খবর পাওয়ার পরপরই শ্রীবরদী থানা পুলিশের একটি চৌকস দল দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পুকুর থেকে কালুর মরদেহ উদ্ধার করে। এরপর ঘটনার প্রাথমিক বিবরণ সংগ্রহসহ নিহতের মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়। মৃত্যুর সঠিক কারণ নিরূপণ এবং এটি কোনো পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড নাকি স্রেফ দুর্ঘটনা, তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানার জন্য মরদেহটি শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। এদিকে কালু নিখোঁজ হওয়ার আগে যার সঙ্গে শেষবার বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন, সেই সঙ্গী সদস্য বাদশা মিয়াকে সন্দেহভাজন হিসেবে তাৎক্ষণিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ।
ঘটনার খবর পেয়ে শ্রীবরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরল আলম স্বশরীরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং সার্বিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। তিনি জানান, পুলিশ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর কালু মিয়ার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। এরপর প্রাপ্ত তথ্যপ্রমাণ এবং তদন্তের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে আইনানুযায়ী প্রয়োজনীয় পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। নিহত তরুণের মৃত্যু দুর্ঘটনাজনিত, নাকি এর পেছনে কোনো অন্য কারণ রয়েছে—তা নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রেখেছে পুলিশ।