জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশ নিতে ৩৮ সদস্যের প্রতিনিধিদল নিয়ে নিউ ইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার সকালে টার্কিশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে রওনা হন তিনি। নতুন সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে এটিই হতে যাচ্ছে তাঁর প্রথম ভাষণ। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ বিতর্কে বক্তব্য দেওয়ার মাধ্যমে বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের সুনির্দিষ্ট নীতি ও স্থান পরিষ্কার করবেন প্রধানমন্ত্রী।
রাষ্ট্রপ্রধানের এই সফরের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ ও আন্তর্জাতিক গুরুত্বসম্পন্ন দিক হলো বাংলাদেশ ও সুইডেনের যৌথ আয়োজনে মাতৃ ও নবজাতক স্বাস্থ্য এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ক একটি উচ্চপর্যায়ের 'সাইড ইভেন্ট'। জাতিসংঘের সদর দপ্তরে অনুষ্ঠেয় এই বিশেষ আয়োজনে পেশাদার ধাত্রীসেবাকে প্রাথমিক চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত করার বিষয়টি প্রাধান্য পাবে। অত্যন্ত আনন্দের বিষয় হলো, এই আন্তর্জাতিক সেশনের উচ্চপর্যায়ের প্যানেল আলোচনাটি পরিচালনা করার দায়িত্ব পেয়েছেন ঝালকাঠির কৃতি সন্তান ও প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার। বিশ্বের বহু দেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং প্রতিনিধিরা এই সেশনে যুক্ত হয়ে মাতৃমৃত্যু হ্রাস ও স্বাস্থ্যকর্মী তৈরির অভিজ্ঞতা বিনিময় করবেন।
সাইড ইভেন্টে প্রধান বক্তা হিসেবে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি জনগণের দোরগোড়ায় আধুনিক প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া, প্রসূতি ও শিশুর সুরক্ষায় বাংলাদেশের সাফল্য এবং প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্য ব্যবস্থার মডেল বিশ্বদরবারে উপস্থাপন করবেন। বিশেষ করে চিকিৎসাকেন্দ্রিক ব্যবস্থার বাইরে গিয়ে কমিউনিটিভিত্তিক স্বাস্থ্য সেবা ও প্রশিক্ষিত ধাত্রীদের ভূমিকা তুলে ধরা হবে। স্বাস্থ্য খাতের এই আন্তর্জাতিক আলোচনায় ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দারের সমন্বয়কারী হিসেবে অংশগ্রহণ বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশের সম্মান বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।
এবারের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে সর্বসম্মতিক্রমে মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে—‘বিশ্বাস পুনরুদ্ধার, রূপান্তর পরিচালনা: সবার জন্য কার্যকর একটি জাতিসংঘ’। বাংলাদেশের জন্য এই অধিবেশনটি রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত ঐতিহাসিক ও গৌরবের, কেননা বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ৮১তম সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে আন্তর্জাতিক মঞ্চে দায়িত্ব পালন করছেন। এবারের সফরে তুলনামূলক ছোট প্রতিনিধিদল নিয়ে গেলেও সম্মেলন থেকে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রা, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে ইতিবাচক বার্তা নিয়ে আসবেন প্রধানমন্ত্রী।