আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে অস্থিরতা সৃষ্টির মাধ্যমে মার্কিন বাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির পেছনে ইরান প্রত্যক্ষভাবে দায়ী বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তবে চলমান সামরিক সংঘাত এড়িয়ে তেহরানের সঙ্গে দ্রুত একটি কার্যকর কূটনৈতিক সমঝোতা বা চুক্তিতে পৌঁছানোর বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত আগ্রহী বলে জানিয়েছেন তিনি। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
মার্কিন প্রশাসনের এই শীর্ষ কর্মকর্তা আরও উল্লেখ করেন যে, তেহরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা নিরসনে সামরিক শক্তি প্রয়োগের চেয়ে আলোচনার টেবিলে সমাধান খোঁজাকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমনকি ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সরাসরি বৈঠকে বসার সম্ভাবনাও পুরোপুরি উড়িয়ে দেননি তিনি। ওয়াশিংটন সাধারণত যেসব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা থেকে দূরে থাকে, বর্তমান প্রশাসন তাদের সঙ্গেও প্রয়োজনে সরাসরি কথা বলতে প্রস্তুত রয়েছে বলে জানান ভ্যান্স।
কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ওপর জোর দেওয়া হলেও ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের বিকল্পটি সম্পূর্ণ বাতিল করা হয়নি বলে সতর্ক করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট। পরিস্থিতি সাপেক্ষে আগামী কয়েকদিনের মধ্যে সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার পূর্ণ এখতিয়ার রাষ্ট্রপতির হাতে রয়েছে। তবে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের বদলে দ্রুত একটি টেকসই চুক্তির মাধ্যমেই বিষয়টির সুরাহা চান ট্রাম্প।
মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকটের ফলে মার্কিন অর্থনীতির ওপর যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে, সে বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসন সম্পূর্ণ সচেতন রয়েছে। আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে অর্থাৎ প্রায় ছয় সপ্তাহের এই সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যেই জটিল এই সংকটের একটি ইতিবাচক সমাধান আনতে চান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। যদিও নির্ধারিত এই সময়ের মধ্যে তেহরানের সঙ্গে কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো বেশ চ্যালেঞ্জিং হতে পারে, তবুও দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় এটি অত্যন্ত ফলপ্রসূ হবে বলে মত প্রকাশ করেছেন জেডি ভ্যান্স।