জাতিসংঘ
সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনকে সামনে রেখে নিউইয়র্কে জড়ো হচ্ছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানরা। এরই
ধারাবাহিকতায় দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং
এবং জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংকটের পাশাপাশি কোরীয় উপদ্বীপের শান্তি, বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করবেন তারা।
দক্ষিণ
কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং
সোমবার নিউইয়র্কের উদ্দেশে যাত্রা করেন। তিন দিনের এই সফরে তিনি
মঙ্গলবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বক্তব্য দেবেন। ইয়োনহাপ নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বক্তব্যে তিনি কোরীয় উপদ্বীপে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের বিষয়ে তার প্রশাসনের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরবেন। পাশাপাশি বৈশ্বিক বিভিন্ন সংকট মোকাবিলায় দক্ষিণ কোরিয়ার ভূমিকা নিয়েও কথা বলবেন তিনি।
নিউইয়র্ক
সফরে লি জে মিয়ং
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের সঙ্গে
বৈঠকের উদ্যোগ রয়েছে তার। আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা, অর্থনীতি ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার
মতো বিষয় এসব আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে।
নিউইয়র্ক
সফর শেষে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মেক্সিকোতে রাষ্ট্রীয় সফরে যাবেন। সেখানে দেশটির প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শেইনবাউমের সঙ্গে বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং সরবরাহব্যবস্থার সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করার কথা রয়েছে। ইয়োনহাপের তথ্য অনুযায়ী, দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়টিও আলোচনায় আসতে পারে।
অন্যদিকে
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির নিউইয়র্ক যাত্রা প্রায় চার ঘণ্টা পিছিয়ে যায়। পূর্ব জাপানে টাইফুন দুজুয়ানের প্রভাবে ভারী বৃষ্টি ও শক্তিশালী বাতাসের
কারণে এই বিলম্ব হয়
বলে কিয়োদো নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে। আবহাওয়ার প্রতিকূল পরিস্থিতি কাটিয়ে পরে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওনা হন।
জাতিসংঘ
সাধারণ পরিষদে এবারই প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বক্তব্য দেবেন তাকাইচি। মঙ্গলবার তার বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। একই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার বৈঠকেরও সূচি রয়েছে। আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বিভিন্ন
ইস্যুর পাশাপাশি দুই দেশের সম্পর্ক নিয়েও সেখানে আলোচনা হতে পারে।
এদিকে
এশিয়ার আরও কয়েকটি দেশ তাদের রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারপ্রধান অথবা শীর্ষ কূটনীতিককে ৮১তম সাধারণ পরিষদে পাঠাচ্ছে। বাংলাদেশ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সোমবার ভোরে নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন। বৃহস্পতিবার সাধারণ পরিষদে তার প্রথম বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে।
পাকিস্তানের
প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। তিনি শুক্রবার সাধারণ পরিষদে বক্তব্য দেবেন। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এরই মধ্যে নিউইয়র্কে পৌঁছেছেন এবং প্রতিনিধিদলের সঙ্গে রয়েছেন।
ভারতের
প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। শনিবার
সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে তার বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। অন্যদিকে ইন্দোনেশিয়ার হয়ে প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুগিয়োনো। তিনি প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোর পক্ষে সেখানে অংশ নিচ্ছেন বলে রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আন্তারা জানিয়েছে।
মালয়েশিয়ার
প্রতিনিধিত্ব করবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহামাদ হাসান। সাধারণ বিতর্কে তিনি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার, আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা নিয়ে
মালয়েশিয়ার অবস্থান তুলে ধরবেন বলে জানা গেছে।
বিশেষ
করে এশিয়ার নেতাদের এই সফরকে কেবল
আনুষ্ঠানিক অংশগ্রহণ হিসেবে দেখা হচ্ছে না; জাতিসংঘের মঞ্চকে তারা নিজ নিজ দেশের পররাষ্ট্রনীতি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক স্বার্থ তুলে ধরার গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করছেন। নিউইয়র্কে একাধিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের মাধ্যমে চলমান আন্তর্জাতিক ইস্যুতে সমন্বয়ের বিষয়টিও আলোচনায় আসতে পারে। এতে চলতি বছরের অধিবেশনটি এশিয়ার কূটনৈতিক তৎপরতার দিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
জাতিসংঘের
এবারের উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্ক ২২ থেকে ২৮
সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে। বিশ্বজুড়ে চলমান সংঘাত, মানবিক সংকট, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের
মধ্যে এবারের অধিবেশনে বিশ্বনেতাদের অংশগ্রহণ বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। অধিবেশনের প্রতিপাদ্য ‘আস্থা পুনর্গঠন, রূপান্তর ব্যবস্থাপনা: সবার জন্য কার্যকর জাতিসংঘ’।
সূত্র:
আনাদোলু এজেন্সি, ইয়োনহাপ নিউজ এজেন্সি ও কিয়োদো নিউজ