আন্তর্জাতিক
অপরাধ আদালত বা আইসিসির কার্যক্রম
দুর্বল করার চেষ্টার অভিযোগ তুলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর
বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন সিনেটর ক্রিস ভ্যান হোলেন। ইউরোপীয় দেশ ও আইসিসির অন্যান্য
সদস্যরাষ্ট্রকে এ পদক্ষেপ নেওয়ার
আহ্বান জানান তিনি।
সোমবার
নিউইয়র্কে দেওয়া এক বক্তব্যে নয়,
বরং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ভ্যান
হোলেন তার অবস্থান জানান। তিনি বলেন, আইসিসির সদস্য ইউরোপীয় দেশগুলো এবং অন্যান্য স্বাক্ষরকারী রাষ্ট্রগুলোর যদি আত্মসম্মান থাকে, তাহলে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের তদন্তে বাধা দেওয়ার অভিযোগে ট্রাম্প ও রুবিওর ওপর
তাদের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা উচিত।
ভ্যান
হোলেনের এই মন্তব্য এমন
সময় এলো, যখন দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা
হয়েছে, আইসিসির বিরুদ্ধে ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। প্রতিবেদনে মার্কিন কর্মকর্তাদের বক্তব্য ও নথির বরাত
দিয়ে বলা হয়, এই পদক্ষেপ আদালতটির
বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের চলমান চাপকে আরও বিস্তৃত করতে পারে।
প্রস্তাবিত
নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে ছয় থেকে সাত
মাসের একটি সময়সীমা বা ছাড়ের পর
আইসিসির সঙ্গে অধিকাংশ লেনদেন নিষিদ্ধ করা হতে পারে। এর ফলে আদালতটি
মার্কিন ডলারে লেনদেন করতে না পারার পাশাপাশি
আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ থেকেও বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
এতদিন
যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা মূলত আইসিসির নির্দিষ্ট কর্মকর্তা ও বিচারকদের লক্ষ্য
করে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে আদালতের
প্রেসিডেন্ট তোমোকো আকানে, কয়েকজন বিচারক, উপ-প্রসিকিউটর এবং
ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলার সঙ্গে যুক্ত প্রসিকিউটরও রয়েছেন।
তবে
নতুন প্রস্তাবিত নিষেধাজ্ঞার ক্ষেত্রে শুধু ব্যক্তিদের নয়, পুরো আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সঙ্গে লেনদেনকে লক্ষ্য করা হতে পারে। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আদালতের সঙ্গে যোগাযোগসেবা-সংক্রান্ত লেনদেন এই নিষেধাজ্ঞার আওতার
বাইরে থাকতে পারে।
আইসিসির
বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ আরও তীব্র হয় ২০২৪ সালের
নভেম্বরে। ওই সময় আদালত
বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং তৎকালীন ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। গাজায় সংঘটিত কর্মকাণ্ডের ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে কথিত যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের
অভিযোগ আনা হয়। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র আইসিসির
এখতিয়ার ও এসব অভিযোগের
বিষয়ে ভিন্ন অবস্থান পোষণ করে।
ট্রাম্প
প্রশাসন এরই মধ্যে আইসিসির একাধিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। নতুন প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে আদালতের প্রতিষ্ঠান হিসেবে কার্যক্রমের ওপর সরাসরি আর্থিক চাপ তৈরি হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ওয়াশিংটনের
অবস্থানের সমালোচনা করে ভ্যান হোলেন অবশ্য ইউরোপীয় দেশ ও আইসিসির অন্যান্য
সদস্যরাষ্ট্রকে পাল্টা নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তার বক্তব্য মূলত আইসিসির তদন্ত কার্যক্রমকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও আদালতের মধ্যে
চলমান বিরোধের নতুন মাত্রা তুলে ধরেছে।
বর্তমান
পরিস্থিতিতে আইসিসিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ এবং ইউরোপীয় দেশগুলোর সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। তবে প্রস্তাবিত নতুন নিষেধাজ্ঞা চূড়ান্তভাবে কখন এবং কীভাবে কার্যকর হবে, সে বিষয়ে এখনো
চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রকাশ করা হয়নি।
সূত্র:
আনাদোলু এজেন্সি ও দ্য ওয়াল
স্ট্রিট জার্নাল