বিশ্ববাজারে
অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পথে রয়েছে। লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ পাইপলাইনে ড্রোন হামলার ঘটনার পর বড় ধাক্কা
সামলে উপসাগরীয় অঞ্চলের বন্দরগুলো থেকে তেল রপ্তানি উল্লেখযোগ্য হারে বাড়িয়ে দিয়েছে সৌদি আরবের জ্বালানি জায়ান্ট আরামকো। এর প্রত্যক্ষ প্রভাবে
বিশ্ববাজারে তেলের দামেও স্বস্তি ফিরেছে।
গত
রোববার মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় জলসীমায় প্রায় ১ কোটি ৪০
লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেলবোঝাই করেছে সাতটি সুপারট্যাংকার। তেল পরিবহন পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট ট্যাংকারট্রাকার্স ডটকমের তথ্য অনুযায়ী, লোহিত সাগরে ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার পর থেকেই উপসাগরীয়
টার্মিনালগুলোতে লোডিং কার্যক্রম জোরদার করা হয়।
এই
আকস্মিক তেলবোঝাই বৃদ্ধি বিশ্ববাজারে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছে। বাজারে অতিরিক্ত তেল আসার প্রত্যাশায় সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দরপতন ঘটেছে। বিশেষ করে ব্রেন্ট ক্রুড বেঞ্চমার্কের দাম গত ৯ সেপ্টেম্বরের
পর প্রথমবারের মতো প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলারের নিচে নেমে এসেছে।
ট্যাংকারট্রাকার্স
ডটকমের প্রতিবেদন জানাচ্ছে, বোঝাই করা সাতটি জাহাজই অত্যন্ত বড় অপরিশোধিত তেলবাহী
সুপারট্যাংকার বা ভেরি লার্জ
ক্রুড ক্যারিয়ার। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রকাশিত স্যাটেলাইট চিত্রেও গত রোববার সৌদি
আরবের রাস তানুরা বন্দরের আশপাশে এই ট্যাংকারগুলোর অবস্থান
নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে সৌদি
আরামকোর কোনো মুখপাত্র আনুষ্ঠানিকভাবে মুখ খুলতে রাজি হননি।
এদিকে
বিশিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠান জেপি মরগ্যানের বিশ্লেষকেরা গত ১৮ সেপ্টেম্বরের
এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন, স্যাটেলাইট ডাটা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে হরমুজ প্রণালির মধ্য দিয়ে গত ছয় দিনে
সৌদি তেল পরিবহনের দৈনিক গড় পরিমাণ ছিল
২৯ লাখ ব্যারেল। অথচ আগস্ট মাসে এই হার ছিল
মাত্র ৭ লাখ ব্যারেল।
উল্লেখ্য,
গত ১৩ সেপ্টেম্বর ড্রোন
হামলার কবলে পড়ে সৌদি আরবের স্ট্র্যাটেজিক ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনটি বন্ধ রাখতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। এর
ফলে লোহিত সাগরের ইয়ানবু তেলবন্দরে অপরিশোধিত তেল লোডিং সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতির কারণে আরামকো ইউরোপীয় কিছু ক্রেতার চালান বাতিল করতে বাধ্য হলেও, হরমুজ প্রণালির ভেতরের পূর্বাঞ্চলীয় টার্মিনালগুলো থেকে এশীয় বাজারে তেল বিক্রি বাড়িয়ে দেয়।
ভর্টেক্সার
পরিসংখ্যানেও এই পরিবর্তন স্পষ্ট।
গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে
উপসাগরীয় বন্দরগুলো থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৩৭ লাখ ব্যারেল
তেল লোডিং হয়েছে, যা মাসের শুরুতে
ছিল ২৯ লাখ ব্যারেল।
অথচ ১ থেকে ১১
সেপ্টেম্বর পর্যন্ত লোহিত সাগরের বন্দরগুলো থেকে দৈনিক গড়ে ৩৯ লাখ ব্যারেল
তেল পাঠানো হয়েছিল।
বাণিজ্যিক
সূত্রে রয়টার্সকে জানানো হয়েছে, হরমুজ প্রণালির রাস তানুরা বন্দর থেকে প্রায় ৬ কোটি ব্যারেল
অপরিশোধিত তেল বিক্রি করেছে সৌদি আরব। এসব তেল জাহাজ বদল বা শিপ-টু-শিপ ট্রান্সফারের মাধ্যমে ওমানের সোহার বন্দরে পৌঁছে দেওয়া হবে। (সূত্র: রয়টার্স ও ট্যাংকারট্রাকার্স ডটকম)