সাধারণ নাগরিকদের জন্য পাসপোর্ট সংক্রান্ত নিয়মে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে সরকার। এখন থেকে কোনো নাগরিকের পাসপোর্ট প্রথমবার হারিয়ে গেলে, চুরি হলে বা নষ্ট হয়ে গেলে কোনো অতিরিক্ত দণ্ড ফি দিতে হবে না। তবে দুর্ভাগ্যবশত দ্বিতীয়বার বা তার পরবর্তীতে যদি আবার পাসপোর্ট হারানো বা নষ্টের ঘটনা ঘটে, তবে নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত ১০ হাজার টাকা জরিমানা বা দণ্ড ফি পরিশোধ করতে হবে। সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বহির্গমন-৭ শাখা থেকে জারি করা এক নতুন পরিপত্রে এই কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। উপসচিব মোহাম্মদ নুরুজ্জামান এই পরিপত্রে স্বাক্ষর করেছেন।
নতুন এই নির্দেশ অনুযায়ী, পাসপোর্ট হারানোর সঙ্গে সঙ্গে অনলাইনে বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের নির্দিষ্ট পোর্টালে বিষয়টি রিপোর্ট করতে হবে এবং একইসঙ্গে নিকটস্থ থানায় দ্রুত সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে হবে। থানা কর্তৃপক্ষ ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সেই জিডির সত্যতা যাচাই করে পাসপোর্ট অফিসে প্রতিবেদন পাঠাবে। তবে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন না মিললেও জিডির কপি সংযুক্ত করে অনলাইনেই পুনঃইস্যুর আবেদন করা যাবে। এছাড়া ভিসা বা অন্য কোনো কারণে কোনো ট্রাভেল এজেন্সি বা প্রতিষ্ঠান যদি অবৈধভাবে পাসপোর্ট আটকে রাখে এবং উদ্ধার করা সম্ভব না হয়, তবে আগের পাসপোর্ট ‘Revoke’ বা বাতিল করে নতুনটি তোলার সুযোগ রাখা হয়েছে।
বিদেশ অবস্থানরত বাংলাদেশিদের জন্যও রয়েছে সুনির্দিষ্ট নিয়ম। বিদেশে থাকাকালীন পাসপোর্ট হারালে অনলাইনের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দূতাবাস বা হাইকমিশনে দ্রুত তথ্য জানিয়ে ‘Lost Circular’ সংগ্রহ করতে হবে। নতুন পাসপোর্ট তৈরির পর তার ডেটাপেজে স্পষ্ট অক্ষরে উল্লেখ থাকবে যে পূর্বের পাসপোর্টটি হারিয়ে যাওয়ার কারণে এটি ইস্যু করা হয়েছে। পাশাপাশি আবেদনকারীর নামের বানান, জন্মতারিখ বা বাবা-মায়ের মতো মৌলিক পরিচয় পরিবর্তন করার সুযোগ রাখা হয়নি, তবে আইনসম্মত উপায়ে তথ্য সংশোধনের পথ খোলা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই নীতিমালা একদিকে যেমন অসচেতনভাবে পাসপোর্ট হারানোর প্রবণতা কমাবে, অন্যদিকে ভুয়া আবেদন ও অনিয়ম রোধে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করবে। পরিপত্রটি জারির তারিখ থেকেই সারা দেশে কার্যকর করা হয়েছে।