ভোলা প্রতিনিধি:
ভোলার বোরহানউদ্দিনে ওমান প্রবাসী স্বামীর পাঠানো কয়েক লাখ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে পাঁচ বছরের সংসার ভেঙে স্ত্রী আত্মগোপনে চলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি জানানো হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার টগবি ইউনিয়নের মুলাই পত্তন এলাকার বাসিন্দা ওমান প্রবাসী মো. শাহিনের সঙ্গে ২০২১ সালের ২ জুলাই পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় কুমিল্লার মো. জামাল উদ্দিনের মেয়ে রূপা আক্তারের। বিয়ের কয়েক মাস পর জীবিকার উদ্দেশ্যে ওমানে চলে যান শাহিন।
পরিবারের অভিযোগ, বিদেশে যাওয়ার পর স্ত্রী রূপা আক্তারের ব্যাংক হিসাবে কয়েক লাখ টাকা পাঠান শাহিন। পাশাপাশি দাম্পত্য সম্পর্ক অটুট রাখার বিষয়ে ধর্মীয়ভাবে কুরআন শপথও করেছিলেন রূপা।
তবে গত ১৩ আগস্ট ওই টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে শাহিনকে তালাক দিয়ে রূপা আত্মগোপনে চলে যান বলে অভিযোগ করেছে তার শ্বশুরবাড়ির পরিবার। এরপর থেকে শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের সঙ্গে তার যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে বলেও দাবি তাদের।
এ ঘটনায় শাহিনের বাবা বোরহানউদ্দিন থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এর একদিন পর রূপা নিজেই সংবাদ সম্মেলন করে শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ তোলেন এবং শাহিনকে তালাক দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন।
এদিকে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শাহিনের আগে রূপার আরও দুটি বিয়ে হয়েছিল। তবে আগের বিয়েগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। এলাকাবাসীর একাংশের অভিযোগ, একের পর এক বিয়ে করে কাবিনের অর্থ ও স্বামীর সম্পদ নেওয়াই রূপার উদ্দেশ্য। তবে এ অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার।