সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের আত্মহত্যার প্ররোচনা মামলায় নতুন মোড় এসেছে। আলোচিত এই মামলায় এমপির গাড়িচালক ও মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই আদেশ দেন।
এদিন ডিবি পুলিশের তেজগাঁও জোনাল টিমের পরিদর্শক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন আসামি ওবায়দুরকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন জানান। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, মরিয়মের আত্মহত্যার ঘটনায় ওবায়দুরের প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততার প্রাথমিক প্রমাণ মিলছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, মরিয়মের সঙ্গে বিয়ের আগে থেকেই এমপি নজরুলের বিভিন্ন ব্যক্তিগত ও দাপ্তরিক কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এই চালক। মামলার সুষ্ঠু তদন্ত এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিতের স্বার্থেই তাকে কারাগারে রাখার আবেদন করা হয়, যা আদালত মঞ্জুর করেন। আসামিপক্ষে জামিনের কোনো আবেদন করা হয়নি।
এর আগে গত রোববার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের ন্যাম ভবন আবাসিক এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে ১৯ বছর বয়সী মরিয়মের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ ঘটনার পর নিহতের বাবা মো. মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় একটি আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা দায়ের করেন। মামলায় সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলাম এবং ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়।
উল্লেখ্য, গত জুলাই মাসে এমপি নজরুলের সঙ্গে মরিয়মের ব্যক্তিগত মুহূর্তের কিছু ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। ওই ঘটনার জেরে গত ২২ জুলাই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নৈতিক স্খলনজনিত কারণে গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে চিরতরে বহিষ্কার করে। বর্তমান চাঞ্চল্যকর এই আত্মহত্যার প্ররোচনা মামলায় ইতোমধ্যেই এমপি নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে গোয়েন্দা পুলিশ। মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া আরও এগিয়ে নিতে ভবিষ্যতে আসামিদের ফের রিমান্ডে চাওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।