সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ও চট্টগ্রাম-৯ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের স্ত্রী ইমা ক্লেয়ার বার্টনের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) এ আদেশ দেওয়া হয়।
ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ শাহজাহান কবির দুদকের আবেদনের শুনানি শেষে এই আদেশ দেন। দুদকের সহকারী পরিচালক আফনান জান্নাত কেয়া আদালতে ইমা ক্লেয়ার বার্টনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করেন।
দুদকের আবেদনে বলা হয়েছে, ইমা ক্লেয়ার বার্টনের বিরুদ্ধে ৮৪ লাখ ৩৫ হাজার ১২৮ টাকার জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদ অর্জন এবং নির্ধারিত সময়ে সম্পদের বিবরণী দাখিল না করার অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।
কমিশনের পক্ষ থেকে আদালতকে জানানো হয়, ইমা ক্লেয়ার বার্টনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারায় মামলা করা হয়েছে। তদন্তের সময় বিশ্বস্ত সূত্রে তার দেশত্যাগের সম্ভাবনার তথ্য পাওয়া গেছে বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
দুদক আশঙ্কা প্রকাশ করে, তিনি বিদেশে চলে গেলে মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ নথি ও তথ্য সংগ্রহে জটিলতা তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে তদন্ত কার্যক্রমও বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তার বিদেশযাত্রা বন্ধ রাখার আবেদন জানানো হয়।
দুদকের অনুসন্ধানে ইমা ক্লেয়ার বার্টনের নামে ৮৪ লাখ ৩৫ হাজার ১২৮ টাকার জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদের তথ্য পাওয়ার কথা জানানো হয়েছে। এরপর নির্ধারিত ফরমে সম্পদের বিবরণী জমা দেওয়ার জন্য তাকে নোটিশ দেওয়া হয়। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি সেই বিবরণী দাখিল করেননি বলে দুদকের আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সম্পদের বিবরণী দাখিল না করা এবং জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তী সময়ে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। ২০২৫ সালের ৪ জুন ইমা ক্লেয়ার বার্টনের বিরুদ্ধে মামলা করার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছিল দুদক। তখন কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পদের বিবরণী দাখিল না করায় দুর্নীতি দমন আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বর্তমানে ওই মামলার তদন্ত চলছে। তদন্তের স্বার্থে ইমা ক্লেয়ার বার্টন যাতে দেশত্যাগ করতে না পারেন, সে জন্য আদালতের কাছে নিষেধাজ্ঞা চেয়েছিল দুদক। শুনানি শেষে আদালত আবেদনটি মঞ্জুর করে তার বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।
অন্যদিকে, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের বিরুদ্ধেও জ্ঞাত আয়ের বাইরে সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করে দুদক। কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ওই মামলায় নওফেলের ২ কোটি ৯৪ লাখ ৪২ হাজার ৬১৮ টাকার সম্পদের হিসাব পাওয়া যায়নি।
এ ছাড়া নওফেল ও তার প্রতিষ্ঠানের নামে থাকা ৪১টি ব্যাংক হিসাবে ১১৩ কোটি ৮৯ লাখ টাকার বেশি জমা এবং ৯৭ কোটি ৩০ লাখ টাকার বেশি উত্তোলনের তথ্য পাওয়া যায় বলে দুদকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল। এসব তথ্যের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধেও সংশ্লিষ্ট অভিযোগের তদন্ত ও আইনি কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
ইমা ক্লেয়ার বার্টনের বিরুদ্ধে করা মামলার অভিযোগ এখনো তদন্তাধীন। আদালতের দেওয়া বিদেশযাত্রার নিষেধাজ্ঞা তদন্ত কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখার জন্য দুদকের আবেদনের ভিত্তিতেই জারি করা হয়েছে।