জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে সাবেক আইনমন্ত্রী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আনিসুল হকের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তার নিজের এবং স্বার্থসংশ্লিষ্ট তিনজনের নামে মোট ১৭২ কোটি ২৪ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের প্রমাণ পেয়েছে দুদক। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুদকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত নিয়মিত মিডিয়া ব্রিফিংয়ে কমিশনের সচিব মো. সাইদুর রহমান খান এই তথ্য জানান।
দুদকের তদন্তে সাবেক মন্ত্রী আনিসুল হকের স্বনামে ও বেনামে মোট ১৮০ কোটি ৮৫ লাখ টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। এর বিপরীতে তার নিট বৈধ আয় ৮ কোটি ৬১ লাখ টাকা বাদ দিলে ১৭২ কোটি ২৪ লাখ ৩২ হাজার ৯৪১ টাকার সম্পদ জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ হিসেবে প্রমাণিত হয়। এর মধ্যে আনিসুল হকের নিজ নামে ৯৬ কোটি ৮০ লাখ টাকার এবং তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট তিন ব্যক্তির নামে ৮৪ কোটি ৫ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদের সন্ধান মিলেছে।
যাঁদের নাম চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, তারা হলেন—আনিসুল হকের ছোট ভাইয়ের স্ত্রী জেবুন্নেসা বেগম হক কলি (২৩ কোটি ৩২ লাখ টাকা), ভাগ্নে শেখ মো. ইফতেখারুল ইসলাম (২০ কোটি ৭১ লাখ টাকা) এবং কাজিন পরিচয়ধারী মোহাম্মদ ইকবাল (৪০ কোটি ১ লাখ টাকা)। তদন্তে তাদের বিভিন্ন ব্যাংকে এফডিআর ও কোটি টাকার শেয়ারের তথ্য পাওয়া গেছে।
২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেছিলেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ও মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় আনিসুল হকসহ চারজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে এই চার্জশিট দাখিল করা হয়।