আন্তর্জাতিক ডেস্ক
সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যকার ঐতিহাসিক ত্রিপাক্ষিক নিরাপত্তা উদ্যোগ ‘মক্কা প্রতিরক্ষা জোট’-এর প্রথম মহাসচিব হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর সাবেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল নোমান মাহমুদ। বুধবার পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। এর ফলে নতুন এই কৌশলগত সামরিক জোটের প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে রিয়াদস্থ সচিবালয়ের দায়িত্বভার গ্রহণ করলেন তিনি।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, ১৯৮৭ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়া নোমান মাহমুদের বর্ণাঢ্য সামরিক ক্যারিয়ার রয়েছে। তিনি এর আগে ২০২১ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৩ সালের এপ্রিল পর্যন্ত ইসলামাবাদে অবস্থিত ন্যাশনাল ডিফেন্স ইউনিভার্সিটির (এনডিইউ) প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৩ সালে সামরিক বাহিনী থেকে অবসর গ্রহণ করা এই অভিজ্ঞ কর্মকর্তাকে জোটের প্রথম শীর্ষ প্রশাসনিক পদে বসানোকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
উল্লেখ্য, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের যৌথ উদ্যোগে এই ত্রিপাক্ষিক সামরিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ইসলাম ধর্মের পবিত্রতম নগরী মক্কায় এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার সুবাদে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এটি ‘মক্কা জোট’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। মুসলিম বিশ্বের তিন প্রভাবশালী সামরিক ও অর্থনৈতিক শক্তিকে এক সুতোয় বাঁধতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর বিখ্যাত অনুচ্ছেদ-৫ এর আদলে তৈরি হয়েছে এই জোটের মূল কাঠামো। এই চুক্তির বিধান অনুযায়ী, সদস্যভুক্ত যেকোনো একটি দেশের ওপর সশস্ত্র আগ্রাসন চালানো হলে তা পুরো জোটের ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য করা হবে। যৌথ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করার পাশাপাশি সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, আধুনিক ড্রোন প্রযুক্তির বিকাশ এবং যৌথ সমরাস্ত্র উৎপাদনের কাজ করবে এই জোট।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা এবং বিভিন্ন নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলায় পশ্চিমা শক্তির ওপর নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যেই এই জোট গঠন করা হয়েছে। বর্তমান ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে মুসলিম বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী সামরিক জোটে প্রথম মহাসচিবের এই নিয়োগ আঞ্চলিক রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সূত্র: এএফপি, আনাদোলু