পবিত্র
মক্কা নগরীকে বারবার হামলার লক্ষ্যবস্তু বানানোর তীব্র নিন্দা জানিয়ে ইয়েমেনের সশস্ত্র হুতি গোষ্ঠীকে ‘সন্ত্রাসী মিলিশিয়া’ হিসেবে অভিহিত করেছেন সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ। আন্তর্জাতিক
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক
প্রতিবেদনে জানানো হয়, মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) মন্ত্রিসভার
একটি বিশেষ বৈঠকে হুতিদের এই ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণকে
বিশ্বের কোটি কোটি মুসলমানের ধর্মীয় অনুভূতিতে সরাসরি আঘাত ও জঘন্য অপরাধ
হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। সাধারণত দেশটির বেশিরভাগ রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান পরিচালনা করলেও, পবিত্র মক্কার নিরাপত্তা ইস্যুতে বাদশাহর এমন কঠোর ও সরাসরি বক্তব্য
বেশ বিরল ও তাৎপর্যপূর্ণ।
সম্প্রতি
ইরান সমর্থিত হুতিদের একের পর এক প্রাণঘাতী
হামলায় বিগত কয়েক বছরের মধ্যে সৌদি আরবের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এক মারাত্মক চ্যালেঞ্জের
মুখে পড়েছে। গত সপ্তাহে মক্কার
দিকে ধেয়ে আসা একটি ড্রোন সফলভাবে ভূপাতিত করার দাবি জানায় সৌদি প্রতিরক্ষা বাহিনী। তবে হুতিদের শীর্ষ নেতা আবদেল-মালিক আল-হুতি এই
অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। প্রায় এক দশক পর
প্রথমবারের মতো পবিত্র এই শহরে নিরাপত্তা
সতর্কতা জারি করা হয়েছে। দেশের নাগরিকদের নিরাপত্তা রক্ষার্থে রাজকীয় সশস্ত্র বাহিনীর অসামান্য ভূমিকার উচ্চ প্রশংসা করেন বাদশাহ সালমান।
আঞ্চলিক
নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি এবং
ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের সাম্প্রতিক বৈঠকের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন।
হুতিদের
ক্রমবর্ধমান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা
এখন সৌদি আরবের প্রধান শহর, গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো এবং কৌশলগত নৌপথের জন্য বিরাট হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে লোহিত সাগর উপকূলের নিয়ন্ত্রণ হুতিদের হাতে চলে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ও তেল রপ্তানি
নিয়ে নতুন করে গভীর উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে। উদ্ভূত এই আঞ্চলিক উত্তেজনার
প্রেক্ষাপটে সম্প্রতি সৌদি আরব, তুরস্ক এবং পাকিস্তান যৌথভাবে ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ স্বাক্ষর করেছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে
নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। (সূত্র: আল জাজিরা)