ফিলিস্তিন,
সিরিয়া এবং লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর বেপরোয়া ও আগ্রাসী কর্মকাণ্ডের
তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ
করেছেন কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি। নিউইয়র্কে
অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বিশ্বনেতাদের সামনে জোরালো বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি গাজার চলমান পরিস্থিতিকে সরাসরি ‘গণহত্যা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। একই সঙ্গে অধিকৃত পশ্চিম তীরে দখলদারদের সন্ত্রাস বন্ধ এবং স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার যৌক্তিক অধিকার অবিলম্বে মেনে নেওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
জাতিসংঘের
মঞ্চে কাতারের আমির স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেন, বিশ্বব্যবস্থায় ফিলিস্তিন সমস্যাটি যতক্ষণ পর্যন্ত একটি উপেক্ষিত ও অন্ধকার অধ্যায়
হয়ে থাকবে, ততক্ষণ কোনো ন্যায়সংগত আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার কথা বলা সম্পূর্ণ অবান্তর। গাজায় সংঘটিত নারকীয় হত্যাকাণ্ড মানবসভ্যতার বিবেকের ওপর এক চিরস্থায়ী লজ্জার
দাগ বলে মন্তব্য করেন তিনি। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এই ধ্বংসযজ্ঞের ভয়াবহতা
এবং তা বন্ধে বিশ্ব
সম্প্রদায়ের কার্যকর পদক্ষেপের ব্যবধান দেখে বিস্মিত হবে বলে মন্তব্য করেন শেখ তামিম। গাজায় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে ইসরায়েলকে আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতির আওতায় আনতে হবে বলেও তিনি তাগিদ দেন।
ফিলিস্তিনের
পাশাপাশি আঞ্চলিক অন্যান্য দেশের ওপর ইসরায়েলের বেপরোয়া সামরিক অভিযানের প্রসঙ্গও টেনে আনেন কাতারের আমির। তিনি জানান, ইসরায়েলের এই ক্রমবর্ধমান আগ্রাসন
এখন কেবল ফিলিস্তিনের গণ্ডি পেরিয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোতেও ছড়িয়ে পড়েছে, যা গোটা মধ্যপ্রাচ্যের
আঞ্চলিক নিরাপত্তাকে চরম হুমকিতে ফেলছে। বিশেষ করে কোনো ধরনের যৌক্তিক কারণ বা উসকানি ছাড়াই
সিরিয়ার সার্বভৌম ভূখণ্ড জবরদখল ও ধারাবাহিক হামলার
তীব্র সমালোচনা করেন তিনি। একই সঙ্গে লেবাননের রাষ্ট্রীয় অখণ্ডতা এবং সার্বভৌমত্বের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে সেখানে অবিলম্বে ইসরায়েলি হামলা বন্ধ ও স্থায়ী যুদ্ধবিরতি
বজায় রাখার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন কাতারের আমির। (সূত্র: মিডল ইস্ট আই, আল জাজিরা)