চলমান আঞ্চলিক সংঘাতের অবসান ঘটানোর উদ্দেশ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি নতুন ও বিস্তারিত রোডম্যাপ প্রস্তাব করেছে ইরান। নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে আয়োজিত এক গোপন বৈঠকে এই প্রস্তাব তুলে ধরে তেহরান। এএফপি এবং দ্য ন্যাশনাল পত্রিকার সূত্র অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ফিরিয়ে আনতে এই কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। (সূত্র: এএফপি, দ্য ন্যাশনাল)
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে গত ২২ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটিতে পৌঁছায় ইরানের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল। অধিবেশনের উদ্বোধনী দিনের বিরতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। দুই দেশের সরাসরি আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকায় এই বৈঠকে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেন কাতার, পাকিস্তান এবং মিসরের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা।
সূত্রের তথ্যমতে, ইরানের পক্ষ থেকে পেশ করা এই নতুন রোডম্যাপে ৬০ দিন মেয়াদী একটি যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কৌশলগত হরমুজ প্রণালির ওপর থেকে ইরানের সম্ভাব্য অবরোধ এবং ইরানি বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত মার্কিন অর্থনৈতিক অবরোধ—উভয় পক্ষ থেকেই প্রত্যাহার করার শর্ত রাখা হয়েছে। এছাড়া চুক্তি অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির নির্ধারিত ৬০ দিন উভয় দেশ পরস্পরকে লক্ষ্য করে সকল ধরনের সামরিক হামলা থেকে বিরত থাকবে। একই সঙ্গে প্রতিবেশী আরব দেশগুলোর ভূখণ্ডে হামলা বন্ধের সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবও এই নতুন কর্মপরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
তবে ওয়াশিংটন এই নতুন রোডম্যাপের প্রতি ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, যুদ্ধাবসান বা শান্তি আলোচনার ক্ষেত্রে তেহরানের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ প্রদর্শিত না হওয়া পর্যন্ত ইরানি বন্দরগুলো থেকে কোনো ধরনের অবরোধ প্রত্যাহার করবে না যুক্তরাষ্ট্র।
এ বিষয়ে একটি নির্ভরযোগ্য কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, ‘ইরানের পক্ষ থেকে পেশ করা এই রোডম্যাপ মূলত ভবিষ্যৎ ও অর্থবহ আলোচনার জন্য একটি বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা। এর মূল লক্ষ্য হলো চলমান সংঘাতের চিরস্থায়ী অবসান ঘটানো এবং ওয়াশিংটনের সঙ্গে বিদ্যমান ঐতিহাসিক মতপার্থক্য দূর করে একটি সামগ্রিক ও গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছানো।’ সূত্র আরও জানায়, এই নতুন প্রস্তাবটিতে এর আগের দফার আলোচনার ফলাফলগুলোকে নতুন আঙ্গিকে সাজানো হয়েছে এবং জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য বেশ কিছু স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে আলাদাভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
মঙ্গলবারের এই কূটনৈতিক আলোচনা মূলত শুরু হয়েছিল ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের মধ্যকার একটি বৈঠকের মধ্য দিয়ে। ওই প্রাথমিক বৈঠকের পর দুই দেশের বিশেষজ্ঞ ও অভিজ্ঞ কূটনীতিকদের অংশগ্রহণে আরও একটি দীর্ঘ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় স্টিভ উইটকফ জানান, মধ্যস্থতাকারি দেশগুলোর প্রতিনিধিদের মাধ্যমে তারা সারাদিন ধরে ইরানি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা চালিয়ে গেছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, তাঁরা সফলভাবে আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্ব সম্পন্ন করেছেন, যা ভবিষ্যতে উভয় পক্ষের জন্য আশাব্যঞ্জক ফলাফল বয়ে আনবে এবং মধ্যস্থতাকারীরা তাঁদের এই যোগাযোগ অব্যাহত রাখবেন।