মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের যুদ্ধের আশঙ্কা ও উত্তেজনা দানা বাঁধতে শুরু করেছে। ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক ও তীব্র আক্রমণ মোকাবিলায় এবার কঠোর প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানে যাচ্ছে আঞ্চলিক মিত্ররা। এরই অংশ হিসেবে সৌদি আরবের সার্বিক নিরাপত্তা ও সুরক্ষায় জরুরি বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সেনাপ্রধানেরা। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানানো হয়েছে।
গত জুলাই মাস থেকে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হুথি বিদ্রোহীদের সামরিক তৎপরতা ও হামলা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে দীর্ঘকাল ধরে কার্যকর থাকা যুদ্ধবিরতির ইতি ঘটেছে। গোষ্ঠীটি বর্তমানে সৌদির বিরুদ্ধে নতুন করে কঠোর নৌ-অবরোধ আরোপ এবং বিভিন্ন কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে আক্রমণ পরিচালনা শুরু করেছে। বিশেষ করে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি কার্যক্রম সম্পূর্ণ স্থবির করে দেওয়ার অসৎ উদ্দেশ্যে ইয়েমেনের সম্পূর্ণ লোহিত সাগর উপকূলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দখলে নিয়েছে এই বিদ্রোহীরা।
এই ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সম্প্রতি নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ত্রিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হন সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান, পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। ওই উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক বৈঠকের ঠিক পরপরই তিন দেশের সেনাপ্রধানদের যৌথ বৈঠকের এই ঘোষণা আসে। তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই বৈঠকে অংশ নিতে দেশটির সেনাপ্রধান বর্তমানে সৌদি আরব সফর করছেন।
সৌদির সরকারি বার্তা সংস্থা এসপিএ-তে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির কার্যকারিতা ও সৌদি আরবের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কর্মপন্থা নির্ধারণেই এই সেনাপ্রধানরা বৈঠকে বসছেন। গত মাসে সম্পাদিত এই চুক্তির অন্যতম প্রধান শর্ত হলো— জোটভুক্ত যেকোনো একটি দেশের ওপর আক্রমণকে সব দেশের ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য করা হবে এবং যৌথভাবে তা প্রতিহত করা হবে। পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর আদলে গঠিত এই শক্তিশালী সামরিক চুক্তি সত্ত্বেও পাকিস্তান ও তুরস্ক এখন পর্যন্ত হুথিদের বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো বড় সামরিক অভিযানে অংশ নেয়নি।
এদিকে ত্রিদেশীয় বৈঠকে তিন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা সৌদি আরবের বেসামরিক ও অর্থনৈতিক কেন্দ্রগুলোতে হুথিদের চালানো ধারাবাহিক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। বিশেষ করে ইসলামের পবিত্রতম স্থান মক্কার দিকে পরিচালিত হামলার কঠোর সমালোচনা করা হয়েছে, যদিও হুথি বিদ্রোহীরা মক্কায় হামলার অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে। পরিস্থিতির চরম অবনতির মুখে সৌদি আরবের গ্র্যান্ড মুফতি সালেহ বিন ফাওজান বিন আবদুল্লাহ আল-ফাওজান দেশটির সশস্ত্র বাহিনীকে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি হুথি গোষ্ঠী ও তাদের মদদদাতাদের সম্পূর্ণ নির্মূল করার জন্য আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করেছেন। সূত্র: এএফপি