রাশিয়ার লাগাতার ও ধ্বংসাত্মক বিমান হামলা মোকাবিলায় অবশেষে ইউক্রেনকে প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের লাইসেন্স প্রদানের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনের ফাঁকে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর এই গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সিদ্ধান্তের কথা প্রকাশ্যে এনেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
গত শুক্রবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক সুনির্দিষ্ট অডিও বার্তায় ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে ব্যক্তিগত আলাপে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির লাইসেন্স দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেছেন। দীর্ঘ দিন ধরে রাশিয়ার তীব্র ড্রোন ও বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে জর্জরিত ইউক্রেন তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে মার্কিন সহায়তার ওপর অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে আসছে। বিশেষ করে মস্কোর উন্নত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো প্রতিহত করার জন্য প্যাট্রিয়ট ব্যবস্থার কোনো বিকল্প নেই বলে কিয়েভ বারবার দাবি করে আসছে। চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি আসন্ন শীত মৌসুমের কথা মাথায় রেখে দ্রুত প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের জোরালো আবেদন জানান।
এর আগে গত জুলাই মাসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেনকে এই লাইসেন্স প্রদানের সম্ভাবনাকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখলেও পরবর্তীতে মার্কিন প্রশাসনের দিক থেকে বিষয়টি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে মূল্যায়নের অবস্থান নেওয়া হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক বৈঠকে দুই নেতার আলোচনার পর চূড়ান্ত অনুমোদনের বিষয়টি নিশ্চিত হলো। অবশ্য ইউক্রেনের অস্ত্র বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজনৈতিক ও দাপ্তরিক অনুমোদন মিললেও যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটিতে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত অবকাঠামো বা কারখানা গড়ে তুলতে এক বছরের বেশি সময় প্রয়োজন। তাই এই দূরবর্তী উদ্যোগ কিয়েভের বর্তমান মুহূর্তের জরুরি সামরিক ও প্রতিরক্ষামূলক ঘাটতি তাৎক্ষণিকভাবে পূরণ করতে সক্ষম হবে না।
বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক ও সামরিক বাস্তবতায় ইউক্রেনের অস্ত্রভাণ্ডারে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের তীব্র সংকট রয়েছে। প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি এর আগে প্রাক্কলন করে জানিয়েছিলেন যে, আসন্ন তীব্র শীতকাল নিরাপদে পার করতে দেশটির যুক্তরাষ্ট্রের মোট প্যাট্রিয়ট প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্রের অন্তত ৫ শতাংশ প্রয়োজন। আর রাশিয়ার ছোড়া সমস্ত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আকাশে ধ্বংস করতে এই চাহিদার পরিমাণ প্রায় ১০ শতাংশ পর্যন্ত গড়াতে পারে। ফলে উৎপাদন লাইসেন্স প্রাপ্তি দীর্ঘমেয়াদে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হলেও তাৎক্ষণিক যুদ্ধ পরিস্থিতি মোকাবিলায় কিয়েভকে আরও নানা উপায়ে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।
এরই মধ্যে ইউক্রেনের সাধারণ মানুষের ওপর রুশ আগ্রাসন আরও তীব্র রূপ ধারণ করেছে। গত শুক্রবার রাজধানী কিয়েভের একটি জনবহুল আবাসিক ভবনে ভয়াবহ ড্রোন হামলায় ১৪ বছরের এক কিশোর মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারিয়েছে। ইউক্রেনের প্রশাসনিক কর্মকর্তারা উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন যে, রাশিয়া এখন কেবল রাতের বেলায় নয়, বরং প্রকাশ্য দিবালোকে কিয়েভে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। হামলায় বহুতল ভবনটির নবম ও দশম তলার বেশ কয়েকটি অ্যাপার্টমেন্ট সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে গেছে। অন্যদিকে, দেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় কৌশলগত ওদেসা এলাকার একটি ডাকঘরেও নৃশংস হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী, যার ফলে আরও একজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। সূত্র: ইউরোনিউজ ও এএফপি