টানা কয়েকদিনের অবিরাম বর্ষণ এবং এর ফলে সৃষ্ট মারাত্মক বন্যা পরিস্থিতির কারণে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের ৫০টি জেলাই জরুরি অবস্থার আওতায় আনা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার পর্যন্ত প্রায় ৩০০ মিলিমিটার বা ১১.৮ ইঞ্চি রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টির কারণে শহরটির বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে এবং ভেঙে পড়েছে স্বাভাবিক জনজীবন।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এএফপি ও গালফ নিউজের প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। ব্যাংককের গভর্নর চাদচার্ট সিথিপুন্ট জানান, শহরের পূর্বাঞ্চল সবচেয়ে বেশি প্লাবিত হয়েছে এবং পরিস্থিতি দ্রুত মোকাবিলায় স্থানীয় ও নগর সংস্থগুলোকে বিশেষ আইনি ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে। টানা বর্ষণে প্রধান সড়কগুলো পানির নিচে তলিয়ে গেছে এবং খালের পানি উপচে সংলগ্ন ঘরবাড়ি, দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ঢুকে পড়েছে। উত্তর ব্যাংককের এক স্থানীয় বাসিন্দা গণমাধ্যমকে জানান, কোমর সমান পানি জমে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে হয়েছে এবং তার মতে, বর্তমান এই পরিস্থিতি ২০১১ সালের প্রলয়ংকরী বন্যাকেও ছাড়িয়ে গেছে। উল্লেখ্য, ২০১১ সালে থাইল্যান্ডে আঘাত হানা সেই ভয়াবহ বন্যায় পাঁচ শতাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল।
ব্যাংককের গভর্নর চাদচার্ট সিথিপুন্ট আরও জানান, সামনে আরও বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে এবং পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসন সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, ‘অনবরত বৃষ্টি হচ্ছে এবং আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। সেচ দিয়ে পানি নিষ্কাশনের চেষ্টা চললেও খালের পানি কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে গেছে।’ এ সময় গভর্নর খালসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত তাদের যানবাহন নিরাপদ ও উঁচু স্থানে সরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসার ওপর নির্ভরশীল শয্যাশায়ী রোগীদের সাময়িকভাবে নিকটস্থ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সূত্র: এএফপি ও গালফ নিউজ