দেশের জনস্বাস্থ্য খাতে এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি অব্যাহত রয়েছে। ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে আরও আট জন মানুষের মর্মান্তিক প্রাণহানি ঘটেছে। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল ও চিকিৎসাকেন্দ্রে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৪৩২ জন ডেঙ্গুরোগী। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত পরিসংখ্যানে জানানো হয়, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে আজ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে সারা দেশে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১৯ জনে। চলতি মৌসুমে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা কতটা তীব্র আকার ধারণ করেছে, তার চিত্র স্পষ্ট হয় মাসিক মৃত্যুর হিসাব থেকে। শুধুমাত্র চলতি সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম ২৫ দিনেই প্রাণ হারিয়েছেন ১২২ জন মানুষ। এছাড়া আগস্ট মাসে ৪৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে ১ জন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে দুই জন করে ডেঙ্গুরোগীর মৃত্যুর তথ্য রেকর্ড করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, শুক্রবার সকাল আটটা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ১ হাজার ৪৩২ জন ডেঙ্গুরোগী চিকিৎসাধীন হয়েছেন। এর ফলে চলতি বছরে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া মোট রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭১ হাজার ৫৩৬ জনে। তবে এই বিপর্যস্ত পরিস্থিতির মধ্যেও চিকিৎসকদের নিরলস প্রচেষ্টায় রোগীরা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতাল থেকে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ হাজার ৪২৯ জন রোগী। এ নিয়ে চলতি বছরে এ পর্যন্ত মোট ৬৬ হাজার ২৫৬ জন ডেঙ্গুরোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় বিভাগওয়ারি নতুন ভর্তির পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ডেঙ্গু সংক্রমণের বিস্তার এখন সারা দেশেই একযোগে ছড়িয়ে পড়েছে। এর মধ্যে রাজধানী ঢাকাসহ ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ৫৬৬ জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এছাড়া অন্যান্য অঞ্চলের মধ্যে খুলনা বিভাগে ২৪১ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২০৯ জন, বরিশাল বিভাগে ২০৪ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ১১২ জন, রাজশাহী বিভাগে ৫৭ জন এবং রংপুর বিভাগে ৫৩ জন রোগী নতুন করে চিকিৎসাকেন্দ্রে শরণাপন্ন হয়েছেন। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বারবার সতর্ক করে বলছেন যে, মশকনিধনে কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে এবং সাধারণ মানুষের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি না পেলে এই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।