প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করার কোনো জোরালো সম্ভাবনা দেখছেন না বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) স্থায়ী কমিটির প্রভাবশালী সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, বর্তমান ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় এই নির্দিষ্ট ইস্যুটি নিয়ে ভারত সরকার নিজেও একটি জটিল কূটনৈতিক পরিস্থিতির মুখোমুখি রয়েছে। তাই এই বিষয়ে অতিরিক্ত প্রত্যাশা না রেখে পারস্পরিক সার্বভৌমত্ব ও সমতার ভিত্তিতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের ঠিক সামনে জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের উদ্যোগে আয়োজিত এক বিশাল মিছিলপূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দেশে পরিকল্পিত রাজনৈতিক নাশকতা ও সন্ত্রাসের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক পরিবেশকে অস্থিতিশীল করার গভীর চক্রান্তের প্রতিবাদে এই প্রতিবাদী সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের রূপরেখা নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বন্ধুত্বের সম্পর্ক অবশ্যকীয় ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তবে সেই বন্ধুত্বের ভিত্তি হতে হবে নিখাদ পারস্পরিক স্বার্থ, সমমর্যাদা এবং একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অযাচিত হস্তক্ষেপ না করার সুনির্দিষ্ট নীতির ওপর। ভৌগোলিক আয়তন বা শক্তির বিচারে কোনো দেশ বড় বা শক্তিশালী হতে পারে, কিন্তু স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থে বা অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নাক গলানোর কোনো অধিকার বা এখতিয়ার অন্য কোনো রাষ্ট্রের নেই।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আনীত বিভিন্ন গুরুতর অপরাধ ও অভিযোগের বিচার প্রসঙ্গে বিএনপির এই প্রবীণ নেতা দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলেন, তার বিরুদ্ধে যে সমস্ত সুনির্দিষ্ট অপরাধ ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে, সেগুলোর বিচার অবশ্যই দেশের প্রচলিত আইন ও স্বাধীন বিচারব্যবস্থার মাধ্যমে যথাযথ প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখা এবং জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষা করা বর্তমান প্রশাসনের প্রধান নৈতিক দায়িত্ব উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, দেশের সাধারণ মানুষ সরকারকে ক্ষমতা প্রদান করেছে তাদের জানমালের নিরাপত্তা বিধানের জন্য। তাই আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় যারা দায়িত্বে আছেন, তাদের অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে সেই দায়িত্ব পালন করতে হবে। বিএনপি অতীতেও কখনোই আইন নিজের হাতে তুলে নেয়নি এবং ভবিষ্যতেও এমন কোনো সংস্কৃতির চর্চা করবে না।
জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের সভাপতি কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিনের সভাপতিত্বে আয়োজিত উক্ত সমাবেশে কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটি ও ঢাকা মহানগর শাখার শীর্ষস্থানীয় নেতারা উপস্থিত থেকে সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন। দেশের বর্তমান ক্রান্তিলগ্নে দলীয় নেতাকর্মীদের রাজপথে সর্বদা সজাগ ও সক্রিয় থাকার আহ্বান জানিয়ে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং একটি ন্যায়ভিত্তিক ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার মহান ব্রত নিয়ে বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বিএনপি সেই সুমহান রাজনৈতিক আদর্শ বুকে ধারণ করে জনগণের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য নিরলসভাবে সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে।