পাক-আফগান সীমান্তবর্তী অশান্ত জনপদ হিসেবে পরিচিত পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে ফের এক রক্তক্ষয়ী ও বর্বর হামলার ঘটনা ঘটেছে। প্রদেশের ডেরা ইসমাইল খান বা ডিআই খান জেলার একটি ব্যস্ত পুলিশ চেকপোস্টে ঘাতকদের পাতা ভয়াবহ বোমা বিস্ফোরণে শিশু ও নারীসহ অন্তত ১১ জন নিরীহ মানুষের মর্মান্তিক প্রাণহানি ঘটেছে। এই নৃশংস হামলায় আরও অন্তত ত্রিশ জন গুরুতর আহত হয়েছেন, যা পুরো অঞ্চলে চরম আতঙ্ক ও উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ডন-এর প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত শনিবার সংঘটিত এই ভয়াবহ হামলার পরপরই দ্রুততার সঙ্গে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পাকিস্তানের জরুরি সেবা ও দুর্যোগ মোকাবিলা সংস্থা ‘রেস্কিউ ১১২২’। সংস্থাটির মাঠপর্যায়ের কর্মীরা গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন যে, এই বিস্ফোরণে ঘটনাস্থলেই যারা প্রাণ হারিয়েছেন তাদের মধ্যে ৮ জন পুরুষ, ২ জন নারী এবং একটি নিষ্পাপ শিশু রয়েছে। এছাড়া আহতদের মধ্যে অন্তত ২০ জনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় দ্রুত স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে, যেখানে চিকিৎসকরা তাদের জীবন রক্ষায় লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।
স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হামলার শিকার চেকপোস্টটি ডেরা ইসমাইল খান জেলার আমান মেলা এলাকায় অবস্থিত। কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই চেকপোস্টটি ডিআই খানের সঙ্গে বেলুচিস্তানের রাজধানী কোয়েটাকে সংযুক্তকারী মূল মহাসড়কের অত্যন্ত সন্নিকটে অবস্থিত। নিহতদের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য অর্থাৎ পুলিশ কর্মকর্তাদের পাশাপাশি কাস্টমস বিভাগের বেশ কয়েকজন দায়িত্বশীল কর্মীও অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
উল্লেখ্য, গত কয়েক বছর ধরে আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের এই পাহাড়ি ও সংবেদনশীল অঞ্চলগুলোতে সশস্ত্র সন্ত্রাসী সহিংসতা ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর আগে গত ১৮ সেপ্টেম্বর খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশেই অবস্থিত পুলিশ সদরদপ্তরের ভেতরের একটি মসজিদে জুমার নামাজ চলাকালীন ভয়াবহ গাড়িবোমা হামলার ঘটনা ঘটেছিল। তৎকালীন ওই আত্মঘাতী হামলায় অন্তত ২৭ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন এবং প্রায় ৭৫ জন মানুষ গুরুতর জখম হয়েছিলেন। সে সময় নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান বা টিটিপির একটি সহযোগী শাখা ওই নাশকতার দায় স্বীকার করেছিল।
সীমান্তবর্তী এসব অঞ্চলে একের পর এক ভয়াবহ হামলার পেছনে আফগানিস্তান দায়ী বলে দীর্ঘকাল ধরে অভিযোগ করে আসছে পাকিস্তান সরকার। ইসলামাবাদের নীতিনির্ধারকদের স্পষ্ট অভিযোগ, পাকবিরোধী জঙ্গিরা আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে নিয়মিতভাবে পাকিস্তানে রক্তাক্ত হামলা পরিচালনা করছে এবং কাবুল প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না। তবে শুরু থেকেই এই সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়ে আসছে কাবুলের বর্তমান তালেবান প্রশাসন। একের পর এক এমন বর্বরোচিত বোমা হামলা ও প্রাণহানির ঘটনায় সমগ্র অঞ্চলের ভূরাজনৈতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নতুন করে এক গভীর উদ্বেগের মুখে পতিত হয়েছে।
(সূত্র: ডন)