ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ভারত শেখ হাসিনাকে ফেরত দেবে না: নয়াপল্টনে গয়েশ্বর রায় এক দিনে হামের উপসর্গে ৩ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত সহস্রাধিক খাইবার পাখতুনখোয়ায় পুলিশ চেকপোস্টে বোমা হামলা: নিহত ১১ জাসদ কার্যালয়ের সামনে থেকে তিনশ' ব্যক্তি আটক, যাচাই-বাছাই শুরু ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৪৩২ মিয়ানমারের গণহত্যা মামলার রায় ঘোষণা হতে পারে আগামী মাসে মিরপুরে রাড্ডা সেন্টার ধ্বংসের ঘটনায় তদন্ত কমিটি প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে বিভ্রান্তি না ছড়ানোর আহ্বান মন্ত্রণালয়ের পাকিস্তানি সাংবাদিকের উসকানিমূলক প্রশ্নের কড়া জবাব দিলেন এস জয়শঙ্কর এআই দিয়ে বার্তা পাঠিয়ে ব্যাংক থেকে কোটি কোটি ইউরো গায়েব

পাকিস্তানি সাংবাদিকের উসকানিমূলক প্রশ্নের কড়া জবাব দিলেন এস জয়শঙ্কর


  • আপলোড সময় : শনিবার ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ৭:২১ পিএম

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনের সাইডলাইনে আন্তর্জাতিক এক সংবাদিক সম্মেলনে অত্যন্ত অপ্রত্যাশিত ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। এক পাকিস্তানি সাংবাদিকের পক্ষ থেকে ভারত সরকারের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদে পৃষ্ঠপোষকতা সংক্রান্ত এক তীর্যক ও প্ররোচনামূলক প্রশ্ন করা হলে তীব্র ক্ষোভ ও বিরক্তি প্রকাশ করেন তিনি। কোনো রাখঢাক না রেখে পাল্টা প্রশ্নে তিনি সোজাসাপ্টা ভাষায় ওই সাংবাদিককে ধমক দিয়ে বলেন, ‘একটি সন্ত্রাসী রাষ্ট্র আমাকে এই প্রশ্ন করছে?’


যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের পার্শ্ববর্তী একটি ঘরোয়া ও উন্মুক্ত আয়োজনে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, ওই সাংবাদিক যখন জানতে চান যে ভারত সরকার কখন পাকিস্তানে তথাকথিত ‘সন্ত্রাসবাদে মদদ দেওয়া’ বন্ধ করবে, ঠিক তখনই ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এই তীক্ষ্ণ ও আক্রমণাত্মক পাল্টা জবাব দেন। তাৎক্ষণিকভাবে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করার পর ভারতীয় প্রতিনিধিদলের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে সেই স্থান ত্যাগ করেন। তবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সভাস্থল ছেড়ে চলে যাওয়ার পরও ওই সাংবাদিক তার প্রশ্ন ও মন্তব্য চালিয়ে যেতে থাকেন।


দীর্ঘদিন ধরেই নয়াদিল্লি ও ইসলামাবাদের কূটনৈতিক সম্পর্কের মূল কাঁটা হয়ে রয়েছে আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদ। গত বছরের ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগামে পর্যটকদের ওপর বর্বরোচিত এক হামলায় এক নেপালি নাগরিকসহ মোট ২৬ জন নিরীহ মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন। ওই রক্তক্ষয়ী ঘটনার পর ভারত সরকার তীব্র সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে পাকিস্তান ও পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের বিভিন্ন গোপন আস্তানায় সুনির্দিষ্ট ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। ভারতের পক্ষ থেকে জোরালোভাবে দাবি করা হয়েছিল যে, ওই ধ্বংসপ্রাপ্ত স্থাপনাগুলো লস্কর-ই-তাইয়েবা এবং জইশ-ই-মোহাম্মদের মতো আন্তর্জাতিকভাবে নিষিদ্ধ ঘোষিত সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর মূল অবকাঠামোর অংশ ছিল।


এর পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলেও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর ও আক্রমণাত্মক অবস্থান নিয়েছে ভারত। মানবাধিকার কাউন্সিলে ভারতের পক্ষে বক্তব্য প্রদানকালে দেশটির কূটনীতিক ক্ষিতিজ ত্যাগী স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, পাকিস্তানের উচিত অন্য দেশের ভূখণ্ড নিয়ে অপ্রয়োজনীয় স্বপ্ন দেখা বা সন্ত্রাসবাদে মদদ জোগানোর মতো ধ্বংসাত্মক পথ পরিহার করে নিজেদের ভঙ্গুর অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও অভ্যন্তরীণ জনকল্যাণে মনোযোগ দেওয়া। পাকিস্তানের তীব্র ঋণনির্ভর অর্থনীতি এবং অভ্যন্তরীণ কুশাসনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন যে, কাউন্সিলে এই ধরনের রাজনৈতিক নাটক করে দেশটির মৌলিক অর্থনৈতিক সংকটের সমাধান করা সম্ভব নয়।


এছাড়া পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে সাধারণ মানুষের ওপর নিপীড়ন, বেসামরিক নাগরিকদের মৃত্যুর অভিযোগ, রাজধানী ইসলামাবাদ ও রাওয়ালপিন্ডিতে শিক্ষার্থীদের নির্বিচারে গ্রেপ্তার এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য ও ওষুধ সরবরাহে কৃত্রিম বাধার সৃষ্টির মতো গুরুতর বিষয়গুলোও আন্তর্জাতিক মঞ্চে জোরালোভাবে তুলে ধরেছে ভারত। অবশ্য বরাবরের মতো পাকিস্তান এই সমস্ত সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং কাশ্মীরকে ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে স্বীকার করতে আজও অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে।

(সূত্র: দ্য প্রিন্ট)


এ সম্পর্কিত আরো খবর