ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ভারত শেখ হাসিনাকে ফেরত দেবে না: নয়াপল্টনে গয়েশ্বর রায় এক দিনে হামের উপসর্গে ৩ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত সহস্রাধিক খাইবার পাখতুনখোয়ায় পুলিশ চেকপোস্টে বোমা হামলা: নিহত ১১ জাসদ কার্যালয়ের সামনে থেকে তিনশ' ব্যক্তি আটক, যাচাই-বাছাই শুরু ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৪৩২ মিয়ানমারের গণহত্যা মামলার রায় ঘোষণা হতে পারে আগামী মাসে মিরপুরে রাড্ডা সেন্টার ধ্বংসের ঘটনায় তদন্ত কমিটি প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে বিভ্রান্তি না ছড়ানোর আহ্বান মন্ত্রণালয়ের পাকিস্তানি সাংবাদিকের উসকানিমূলক প্রশ্নের কড়া জবাব দিলেন এস জয়শঙ্কর এআই দিয়ে বার্তা পাঠিয়ে ব্যাংক থেকে কোটি কোটি ইউরো গায়েব

এআই দিয়ে বার্তা পাঠিয়ে ব্যাংক থেকে কোটি কোটি ইউরো গায়েব


  • আপলোড সময় : শনিবার ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ৬:২৪ পিএম

আধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার করে কণ্ঠস্বর হুবহু নকল করার এক অভিনব ও চাঞ্চল্যকর জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে ইউরোপে। ইতালির সর্ববৃহৎ ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান ইন্তেসা সানপাওলোর প্রাইভেট ব্যাংকিং শাখা ‘ফিদিয়ুরাম’ থেকে এআই চালিত ভুয়া বার্তার মাধ্যমে প্রায় ১০ কোটি ইউরো হাতিয়ে নিয়েছে সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র। ঘটনার পর কিছু অর্থ উদ্ধার করা সম্ভব হলেও বিশাল অঙ্কের একটি অংশ এখনো নিখোঁজ রয়েছে।


আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স এবং ইতালীয় গণমাধ্যম ‘করিয়েরে দেল্লা সেরা’র প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই বিশাল অঙ্কের অর্থ চুরির প্রক্রিয়াটি শুরু হয়েছিল গত ফেব্রুয়ারি মাসে। ওই সময়ে ফিদিয়ুরামের তৎকালীন চেয়ারম্যান পাওলো মোলেসিনি ইন্তেসা সানপাওলোর প্রধান নির্বাহী বা সিইও কার্লো মেসিনার নাম ও নম্বর ব্যবহার করে একটি হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা পান। বার্তাটিতে অত্যন্ত জরুরি ভিত্তিতে একটি বৈদেশিক লেনদেন সম্পন্ন করার জন্য আর্থিক সহায়তা ও সহযোগিতা চাওয়া হয়েছিল। প্রতারকরা এখানেই ক্ষান্ত হয়নি; তাদের নির্দেশের সত্যতা শতভাগ নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে একটি নামী আইনি প্রতিষ্ঠানের জ্যেষ্ঠ অংশীদারের নম্বর ক্লোন করে একটি ফলোআপ ফোন কলও করা হয়। আধুনিক এআই প্রযুক্তির ভয়েস ক্লোনিং বা কণ্ঠস্বর হুবহু অনুকরণ করার অসাধারণ ক্ষমতা ব্যবহার করে প্রতারকরা ওই আইনজীবীর কণ্ঠ নকল করায় চেয়ারম্যান পাওলো মোলেসিনি সম্পূর্ণভাবে বিভ্রান্ত হন।


নির্দেশনাটি সম্পূর্ণ আসল ও বিশ্বাসযোগ্য মনে করে মোলেসিনি তৎক্ষণাৎ ব্যাংকের অর্থ বিভাগকে প্রধানত চীন ও হংকংয়ের একাধিক বিদেশি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে দ্রুত অর্থ স্থানান্তরের আনুষ্ঠানিক নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে ফিদিয়ুরাম ব্যাংক কর্তৃপক্ষ অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে অর্থ স্থানান্তরে অস্বাভাবিকতা ও অনিয়ম শনাক্ত করতে সক্ষম হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে বেশ কয়েকটি দেশের ব্যাংক ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে সতর্ক করে। ইতালি, চীন ও পর্তুগালের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যৌথ ও সমন্বিত প্রচেষ্টায় পরবর্তী সময়ে প্রায় ৫ কোটি ৩০ লাখ ইউরো উদ্ধার করা সম্ভব হয়। তবে বাকি প্রায় ৩ কোটি ৬০ লাখ ইউরো অপরাধীদের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অ্যাকাউন্ট ও নেটওয়ার্ক ঘুরে ক্রিপ্টোকারেন্সিতে রূপান্তরিত হওয়ায় সেগুলোর আর কোনো হদিশ বা সন্ধান পাওয়া যায়নি।


এই চাঞ্চল্যকর জালিয়াতির ঘটনায় ব্যাংকের তৎকালীন চেয়ারম্যান পাওলো মোলেসিনি বা অন্য কোনো কর্মকর্তার সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ না পাওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে কোনো তদন্ত চলছে না। তবে মিলানের প্রসিকিউটররা কম্পিউটার জালিয়াতি ও সাইবার অপরাধের সুনির্দিষ্ট সন্দেহে ইউরোপের বাইরে বসবাসকারী এক অজ্ঞাত বিদেশি নাগরিককে আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্তের আওতায় এনেছেন। উল্লেখ্য, এই ঘটনার ঠিক পরপরই গত মার্চ মাসে ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে ফিদিয়ুরামের চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করেন পাওলো মোলেসিনি। এর আগে গত বছরও ইতালিতে অনুরূপ একটি ঘটনায় প্রতারকেরা এক মন্ত্রীর কণ্ঠস্বর নকল করে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মাসিমো মোরাত্তিকে প্রায় ১০ লাখ ইউরো অন্য অ্যাকাউন্টে পাঠাতে প্ররোচিত করেছিল, যা অবশ্য পরবর্তীতে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছিল। বর্তমান ডিজিটাল যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এমন বিপজ্জনক অপব্যবহার বিশ্বজুড়ে ব্যাংকিং খাতের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে এক নতুন ও মারাত্মক সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

(সূত্র: রয়টার্স)


এ সম্পর্কিত আরো খবর