জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপির) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, হাসনাত এবং সারজিস আলম সম্পর্কে অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর ও কঠোর মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি দাবি করেছেন যে, এই তরুণ নেতারা তাদের ছাত্রজীবনে একসময় ছাত্রলীগ কিংবা ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় পরিবারের মাঝে আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন।
এনসিপির শীর্ষস্থানীয় নেতাদের সমালোচনা করে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, "এনসিপির নাহিদ ইসলাম, হাসনাত ও সারজিস একসময় ছাত্রলীগ করত। অনেকে শিবির করত। আমাদের সন্দেহ হয়। আপনারা যেহেতু সাবেক ছাত্রলীগ নেতা এবং ১১ দলীয় জোটে আছেন, ভারতের সঙ্গে স্বৈরাচারী হাসিনার তো একটা লাইন আপনাদের আছেই।" তরুণ প্রজন্মের পক্ষ থেকে এই নতুন নেতাদের প্রতি একসময় ব্যাপক প্রত্যাশা ও আশা-আকাঙ্ক্ষা ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন যে, দেশের তরুণ সমাজ চেয়েছিল এই নতুন নেতৃত্ব দেশে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে। এজন্য দেশের সাধারণ মানুষ তাদের দুয়েক জায়গা থেকে নির্বাচিতও করেছিল। কিন্তু বর্তমানে তারা যে ভাষায় কথা বলেন, তা কোনোভাবেই সুস্থ বা শোভন রাজনৈতিক ভাষা হতে পারে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।
অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক অবস্থান প্রসঙ্গেও কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, জামায়াত অতীতে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের সঙ্গে হাত মিলিয়ে আন্দোলন করেছিল। তারা অত্যন্ত পুরোনো ঘরানার রাজনীতিতে অভ্যস্ত এবং অতীতে আওয়ামী লীগের সঙ্গে তাদের যে পুরোনো রাজনৈতিক সম্পর্ক ছিল, তা ভবিষ্যতে যেকোনো সময় পুনরায় জোড়া লাগতেও পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিএনপি কোনো শক্তি বা কারো কোনো ধরনের হুমকিতে বিন্দুমাত্র পরোয়া করে না বলে সাফ জানিয়ে দেন মীর শাহে আলম।
জনগণের অধিকার রক্ষা ও দেশের সার্বভৌমত্ব সুদৃঢ় করতে বর্তমান সরকার সব ধরনের ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করতে প্রস্তুত রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। বাঁশখালী উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় দলীয় নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে আয়োজিত এই চেক বিতরণ অনুষ্ঠানটি রাজনৈতিক অঙ্গনে ইতোমধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।