সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় গোয়েন্দা সংস্থার ভেরিফিকেশনের নামে অন্তত এক হাজার মেধাবী ও যোগ্য তরুণের লালিত স্বপ্ন নির্মমভাবে ধূলিসাৎ করে দেওয়া হয়েছে বলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, বর্তমান সরকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগের মতো একটি পবিত্র ও গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়ায় চূড়ান্ত প্রহসনের নজির স্থাপন করেছে। গত শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক কড়া বিবৃতির মাধ্যমে তিনি সরকারের এই বিতর্কিত সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেন এবং অবিলম্বে বাদ পড়া চাকরিপ্রার্থীদের নিয়োগ নিশ্চিত করার দাবি জানান।
বিবৃতিতে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বিস্তারিত তুলে ধরে বলেন যে, প্রার্থীরা লিখিত পরীক্ষাসহ নিয়োগ প্রক্রিয়ার সমস্ত নির্ধারিত ধাপ সফলভাবে ও মেধার প্রমাণ দিয়েই উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, তাদের মেধার মূল্যায়ন না করে দীর্ঘ আট মাস ধরে গোয়েন্দা ভেরিফিকেশনের নামে এক অনিশ্চিত ও হয়রানিমূলক প্রক্রিয়া চালানো হয়েছে। শেষ পর্যন্ত এই দীর্ঘ অপেক্ষার পর মেধাবী ও তরুণ এসব চাকরিপ্রার্থীদের হাতে নিয়োগপত্র তুলে না দিয়ে তাদেরকে গভীর হতাশা ও অনিশ্চয়তার অন্ধকারে ঠেলে দেওয়া হয়েছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
সরকারের এই পদক্ষেপের কঠোর সমালোচনা করে তিনি আরও জানান যে, গোয়েন্দা ভেরিফিকেশনের নামে যাদের চাকরি থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে, তাদের অধিকাংশের বিরুদ্ধেই দেশের কোনো থানায় কোনো ধরনের ফৌজদারি অপরাধের মামলা কিংবা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) পর্যন্ত নেই। এমনকি অতীতে তাদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার কিংবা কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিন্দুমাত্র সুনির্দিষ্ট তথ্যও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে নেই। এরপরেও কোনো ধরনের স্বচ্ছ, সুস্পষ্ট ও জবাবদিহিমূলক প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে সম্পূর্ণ একতরফাভাবে তাদের নিয়োগ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে বলে বিভিন্ন মহলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
নাহিদ ইসলাম অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেন যে, একজন তরুণ তার মেধা, যোগ্যতা এবং দীর্ঘ পরিশ্রমের মাধ্যমে পরীক্ষার সমস্ত ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন করার পরও যদি কেবল অস্বচ্ছ এবং রহস্যজনক ভেরিফিকেশনের অজুহাতে চাকরি থেকে বঞ্চিত হন, তবে তা কেবল ওই তরুণদের ব্যক্তিগত জীবনের প্রতি চরম অবিচারই নয়, বরং গোটা রাষ্ট্রের সামগ্রিক নিয়োগ ব্যবস্থাকেই মারাত্মকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করে তোলে। এতে মেধাবী তরুণ সমাজ রাষ্ট্রের প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলতে পারে বলে তিনি গভীর শঙ্কা প্রকাশ করেন।
পরিশেষে, বর্তমান সরকারের কাছে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় দাবি জানিয়ে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, যাদের বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট, প্রমাণিত ও আইনসম্মত অপরাধের অভিযোগ নেই, এমন প্রত্যেক নিরপরাধ ও মেধাবী প্রার্থীর নিয়োগ অবিলম্বে নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে কোন মানদণ্ডের ভিত্তিতে এবং কী প্রক্রিয়ায় এই মেধাবী তরুণদের বাদ দেওয়া হয়েছে, সেই ভেরিফিকেশনের সম্পূর্ণ মানদণ্ড ও প্রক্রিয়া জনসমক্ষে স্পষ্টভাবে প্রকাশ করার জন্য তিনি জোর দাবি জানান।