বাংলাদেশকে কোনো ধরনের উপনিবেশ বা তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করার যেকোনো চক্রান্ত কঠোরহস্তে প্রতিহত করা হবে বলে দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল আমিন রিজভী। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন যে, এই স্বাধীন ও সার্বভৌম মাটিতে দেশবিরোধী, গণতন্ত্রবিরোধী এবং স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ববিরোধী কোনো শক্তির বিন্দুমাত্র ঠাঁই হবে না। যারা বাংলাদেশকে পরনির্ভরশীল বা তাঁবেদার রাষ্ট্র বানানোর স্বপ্ন দেখছে, জাতীয়তাবাদী ওলামা দল এবং বিএনপি যৌথভাবে তাদের বিরুদ্ধে দেশের প্রতিটি রাস্তাঘাট, অলিগলি, মোড়ে মোড়ে এবং পথে-প্রান্তরে দুর্ভেদ্য ও কঠিন ব্যারিকেড গড়ে তুলবে।
গত শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বাদ জুমা রাজধানীর ঐতিহাসিক জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে ‘পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার প্রতিবাদে’ জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের উদ্যোগে আয়োজিত এক বিশাল প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের আহবায়ক মাওলানা গাজী মো. সেলিম রেজার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশে দেওয়া বক্তৃতায় রুহুল আমিন রিজভী বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, অন্তর্বর্তীকালীন ও বর্তমান সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঐতিহাসিক ভূমিকা অত্যন্ত জোরালো ভাষায় তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ভাষণের প্রসঙ্গ টেনে রুহুল আমিন রিজভী বলেন, জাতিসংঘের বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তিন প্রজন্মের ধারাবাহিকতার একজন সফল প্রতিনিধি হিসেবে অত্যন্ত গৌরবময় ভূমিকা পালন করেছেন। এর আগে ১৯৮০ সালে তাঁর পিতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং ১৯৯২ সালে তাঁর মাতা সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া এই বিশ্বমঞ্চে দাঁড়িয়ে দেশের পক্ষে বক্তব্য রেখেছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত দূরদর্শী ও সময়োপযোগী বক্তব্য প্রদান করেছেন।
তিনি বিশ্বনেতৃবৃন্দের সামনে অত্যন্ত পরিষ্কার ভাষায় বলেছেন যে, যুদ্ধ বা সংঘাত কোনো সমস্যার সমাধান নয়; বরং অস্ত্রের পরিবর্তে আলোচনার টেবিল, কূটনীতি, শিক্ষা এবং মানবতাই হওয়া উচিত বিশ্ব পরিবর্তনের একমাত্র হাতিয়ার। এছাড়া বিশ্বের প্রতিটি দেশের সঙ্গে পারস্পরিক সমমর্যাদা ও সার্বভৌমত্বের ভিত্তিতে বৈদেশিক সম্পর্ক বজায় রাখার ওপর তিনি বিশেষ জোর দিয়েছেন। ফিলিস্তিনের নির্যাতিত জনগণের অধিকার রক্ষায় একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবি তিনি পুনরায় অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে কথা বলতে গিয়ে রুহুল আমিন রিজভী উল্লেখ করেন যে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের মাটিতে আশ্রয় নেওয়া বাস্তুচ্যুত ও নির্যাতিত মুসলিম রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে সম্পূর্ণ মর্যাদার সঙ্গে তাদের নিজস্ব মাতৃভূমিতে নিরাপদে ও সসম্মানে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং জনকল্যাণমূলক নানা পদক্ষেপের রূপরেখাও তিনি বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরেছেন।
বর্তমান বিশ্বের সাধারণ মানুষ যুদ্ধ চায় না, শান্তি চায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, যেকোনো সশস্ত্র সংঘাতে বৈশ্বিক বাজারে জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যায়, খাদ্যপণ্য ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি গ্যাসের সংকট তৈরি হয় এবং বিদ্যুৎ সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটে। এর ফলে কল-কারখানা বন্ধ হয়ে যায় এবং সাধারণ মানুষ বেকারত্বের অভিশাপে জর্জরিত হয়। একটি কুচক্রী মহল ঠিক এই মুহূর্তে দেশকে অস্থিতিশীল করার পাঁয়তারা চালাচ্ছে। আগুন দিয়ে গাড়ি পুড়িয়ে এবং নৈরাজ্য সৃষ্টি করে দেশের চলমান গণতান্ত্রিক ধারাকে যারা স্তব্ধ করতে চায়, তাদের এই অপচেষ্টার বিরুদ্ধেই আজকের এই প্রতিবাদ সমাবেশ।
সরকারের বৈধতা ও জনগণের অধিকারের বিষয়ে রুহুল আমিন রিজভী অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বলেন যে, বর্তমান সরকার কোনো ধরনের পাতানো বা মধ্যরাতের প্রহসনের নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসেনি। জনগণের দীর্ঘদিনের বহুপ্রতীক্ষিত ও অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোটের মাধ্যমেই তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার ও গণতান্ত্রিক জোট রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। বর্তমান সরকার সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষা এবং সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সমাবেশ শেষে বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেট থেকে একটি বিশাল ও বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়, যা রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।