ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ইমরান সমর্থকদের মিছিল ঠেকাতে ইসলামাবাদ লকডাউন ককটেল তৈরির সরঞ্জাম ও ৯ হাজার মুখোশসহ যুবলীগ নেতা গ্রেপ্তার নেতানিয়াহুর ভাষণ বর্জন: জাতিসংঘের বাইরে ম্যানহাটনজুড়ে তীব্র বিক্ষোভ জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে নেতানিয়াহুর ভাষণ বর্জন করল ৭৭টি দেশ বিয়ের জন্য ১২ ঘণ্টার প্যারোলে মুক্তি, ফের কারাগারে বর নতুন পে স্কেলে পেনশন নির্ধারণ নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ নির্দেশনা ইউক্রেনের সামরিক সহায়তায় ৬.৬ বিলিয়ন ইউরো দিচ্ছে ইইউ রাজবাড়ীতে ফেসবুক স্ট্যাটাস ঘিরে সংঘর্ষ, প্রাণ গেল বাবার দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারি চাকরিজীবীরা পাবেন টানা সাত দিনের ছুটি নাহিদ-হাসনাত-সারজিস একসময় ছাত্রলীগ করতো: মীর শাহে আলম

ইউক্রেনের সামরিক সহায়তায় ৬.৬ বিলিয়ন ইউরো দিচ্ছে ইইউ


  • আপলোড সময় : শুক্রবার ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ৯:১৯ পিএম

ইউক্রেনকে দীর্ঘমেয়াদী ও জোরালো সামরিক সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) আটকে থাকা ৬.৬ বিলিয়ন ইউরো (প্রায় ৭.৫ বিলিয়ন ডলার) তহবিল ছাড় করতে অবশেষে সম্মত হয়েছে জোটের সদস্য দেশগুলো। গত শুক্রবার ইইউর পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান কাজা কালাস এক আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বিশেষ প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর ও ইতিবাচক তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে, যা বর্তমান বৈশ্বিক ভূরাজনীতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।


ইউরোপীয় শান্তি সুবিধা বা ‘ইউরোপিয়ান পিস ফ্যাসিলিটি’ নামক বিশেষ তহবিলের মাধ্যমেই এই বিশাল অঙ্কের অর্থ ছাড় করা হচ্ছে। মূলত ইউক্রেনসহ ইইউর বাইরের বিভিন্ন দেশকে সামরিক সহায়তা প্রদান এবং সদস্য দেশগুলো নিজেদের পক্ষ থেকে ইউক্রেনকে যে সামরিক সহায়তা দিয়েছে, তার আংশিক অর্থ এই তহবিল থেকেই পুনরায় ফেরত দেওয়া হয়। কাজা কালাস বিস্তারিত জানিয়ে বলেছেন যে, ছাড় করা এই মোট ৬.৬ বিলিয়ন ইউরোর মধ্যে প্রায় ৯০০ মিলিয়ন ইউরো সরাসরি ইউক্রেনের জন্য নির্ধারিত ইইউর সামরিক সহায়তা মিশনে ব্যয় করা হবে। এছাড়া আরও ১ বিলিয়ন ইউরো যৌথভাবে আধুনিক সামরিক সরঞ্জাম ক্রয়ের কাজে ব্যবহার করা হবে। বাকি প্রায় ৪.৭ বিলিয়ন ইউরো ইইউর সদস্য দেশগুলোকে তাদের পূর্বে প্রদান করা সামরিক সহায়তার অর্থ ফেরত বা রিইম্বার্সমেন্ট হিসেবে প্রদান করা হবে। এর মধ্যে কয়েকটি দেশ ইতিমধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছে যে, তারা এই প্রাপ্ত অর্থের নিজেদের অংশ পুনরায় নতুন করে ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তা হিসেবে প্রদান করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।


এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে কাজা কালাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (তৎকালীন টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে অত্যন্ত জোরালো ভাষায় উল্লেখ করেছেন যে, এই সিদ্ধান্ত ইউক্রেনের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক এবং রাশিয়ার জন্য একটি বড় নেতিবাচক বার্তা। তাঁর মতে, রাশিয়ার পক্ষ থেকে বিভিন্ন ধরনের রাজনৈতিক চাপ ও হামলা সত্ত্বেও ইউরোপকে ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন কমাতে বাধ্য করা যাবে না; বরং এর মাধ্যমে ইউরোপ উল্টো ইউক্রেনের পক্ষে তাদের জোরালো সমর্থন আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। তবে এই ৬.৬ বিলিয়ন ইউরোর পুরোটাই সরাসরি ইউক্রেনের হাতে নগদ পৌঁছাবে না। সদস্য দেশগুলোকে প্রদান করা ৪.৭ বিলিয়ন ইউরোর ফেরত অর্থের কতটা অংশ তারা নতুন করে ইউক্রেনের সামরিক সহায়তায় পুনর্নিয়োগ করবে, তা সম্পূর্ণভাবে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নিজস্ব রাজনৈতিক ও কৌশলগত সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।


রয়টার্সের প্রতিবেদনে আরও প্রকাশ করা হয়েছে যে, এই তহবিলটি দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে ইউরোপীয় শান্তি সুবিধায় নানামুখী জটিলতার কারণে আটকে ছিল। মূলত হাঙ্গেরির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবানের সরকারের কঠোর আপত্তির কারণেই এই তহবিল ছাড়ের প্রক্রিয়া বারবার বাধাগ্রস্ত হয়েছিল। পরবর্তীতে দীর্ঘ কূটনৈতিক আলোচনা ও সদস্য দেশগুলোর পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে শুক্রবার এই অর্থ ছাড়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ইউক্রেনের জন্য ইইউর সামরিক সহায়তার ক্ষেত্রে এটি সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় এবং যুগান্তকারী অর্থায়ন প্যাকেজ। ইইউর নিজস্ব হিসাব অনুযায়ী, ২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক আগ্রাসন শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ইইউ এবং এর সদস্য দেশগুলো ইউক্রেনীয় সশস্ত্র বাহিনীর জন্য সামরিক সহায়তা বাবদ মোট প্রায় ৯৩ বিলিয়ন ইউরো প্রদান করেছে।


এছাড়া চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের শুরুতেই ইউরোপীয় কমিশন ইউক্রেনের আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, অত্যাধুনিক গোলাবারুদ, ড্রোন এবং ইলেকট্রনিক যুদ্ধ সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য অতিরিক্ত আরও ৬.১ বিলিয়ন ইউরো অনুমোদন করেছিল। সামরিক সহায়তার পাশাপাশি ইউক্রেনের জাতীয় বাজেট এবং রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতেও ইইউ বিশাল অঙ্কের আর্থিক সহায়তা অব্যাহত রেখেছে। ২০২৬ ও ২০২৭ সালের জন্য ইইউর ৯০ বিলিয়ন ইউরোর দীর্ঘমেয়াদী ঋণ সহায়তা পরিকল্পনার মধ্যেও প্রতিরক্ষা এবং প্রতিরক্ষা শিল্পকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর