ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ইমরান সমর্থকদের মিছিল ঠেকাতে ইসলামাবাদ লকডাউন ককটেল তৈরির সরঞ্জাম ও ৯ হাজার মুখোশসহ যুবলীগ নেতা গ্রেপ্তার নেতানিয়াহুর ভাষণ বর্জন: জাতিসংঘের বাইরে ম্যানহাটনজুড়ে তীব্র বিক্ষোভ জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে নেতানিয়াহুর ভাষণ বর্জন করল ৭৭টি দেশ বিয়ের জন্য ১২ ঘণ্টার প্যারোলে মুক্তি, ফের কারাগারে বর নতুন পে স্কেলে পেনশন নির্ধারণ নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ নির্দেশনা ইউক্রেনের সামরিক সহায়তায় ৬.৬ বিলিয়ন ইউরো দিচ্ছে ইইউ রাজবাড়ীতে ফেসবুক স্ট্যাটাস ঘিরে সংঘর্ষ, প্রাণ গেল বাবার দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারি চাকরিজীবীরা পাবেন টানা সাত দিনের ছুটি নাহিদ-হাসনাত-সারজিস একসময় ছাত্রলীগ করতো: মীর শাহে আলম

রাজবাড়ীতে ফেসবুক স্ট্যাটাস ঘিরে সংঘর্ষ, প্রাণ গেল বাবার


  • আপলোড সময় : শুক্রবার ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ৯:১৪ পিএম

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেওয়াকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত বিরোধের জেরে রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলায় প্রতিপক্ষের নির্মম হামলায় নজরুল ইসলাম খান (৬০) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এই বর্বরোচিত হামলায় নিহত ব্যক্তির স্ত্রী ও মেয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার বোয়ালিয়া গ্রামে নিজ বাড়ির সামনে এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে গোলাপী বেগম নামের এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।


স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার দুপুরে নিহত নজরুল ইসলাম খানের মেয়ে রুনা তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে প্রতিবেশী এক নারীর মেয়েকে উদ্দেশ্য করে একটি কটূক্তিমূলক ও আপত্তিকর পোস্ট দেন। যদিও ওই ফেসবুকে পোস্টে নির্দিষ্ট করে কারও নাম সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি, তবুও এ নিয়ে এলাকায় গুঞ্জন ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এই ফেসবুক স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশী ইমান সরদারের পরিবারের সঙ্গে নজরুল ইসলাম খানের পরিবারের তীব্র বিরোধ ও মনোমালিন্যের সৃষ্টি হয়। এরই জের ধরে শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে ইমান সরদার, তার স্ত্রী বুলু, ছেলে তুহিন এবং মেয়ে গোলাপী বেগম দলবদ্ধ হয়ে সরাসরি নজরুল ইসলাম খানের বাড়ির সামনে এসে উপস্থিত হন।


বাড়ির সামনে আসার পর উভয় পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও একপর্যায়ে তীব্র বাক্‌বিতণ্ডা শুরু হয়। পরিস্থিতি দ্রুত মারাত্মক আকার ধারণ করলে হামলাকারীরা ইট ও লাঠি নিয়ে নজরুল ইসলাম খান ও তার পরিবারের সদস্যদের ওপর অতর্কিত চড়াও হন। হামলাকারীদের এলোপাতাড়ি লাঠির আঘাতে নজরুল ইসলাম খান মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক আঘাত পেয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করলে তার স্ত্রী জহুরা বেগম এবং মেয়ে রুনাও হামলাকারীদের মারধরে গুরুতর আহত হন। পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজন অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক নজরুল ইসলাম খানকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। আহত জহুরা বেগম ও রুনা বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।


এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পাংশা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. রাকিবুর রহমানসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে হামলার কাজে ব্যবহৃত একটি লাঠি আলামত হিসেবে জব্দ করেছে। এ বিষয়ে সহকারী পুলিশ সুপার মো. রাকিবুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, সামান্য একটি ফেসবুক স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী মারামারির ঘটনা ঘটেছে, যার মর্মান্তিক পরিণতিতে নজরুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তির প্রাণহানি ঘটেছে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে ইতোমধ্যে গোলাপী বেগম নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং পুরো বিষয়টি অত্যন্ত নিবিড়ভাবে তদন্ত করে আইনানুগ পরবর্তী কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।



এ সম্পর্কিত আরো খবর