বৈরী আবহাওয়া ও প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে বঙ্গোপসাগরে ভাসমান দুটি টার্মিনাল বা এফএসআরইউ থেকে এলএনজি খালাসের কার্যক্রমে সাময়িক বিঘ্ন সৃষ্টি হলেও বর্তমানে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক রয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার কিছু সমস্যা দেখা দিলেও আজ শুক্রবার সকাল থেকেই এই কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে। এ বিষয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এমপি অত্যন্ত আশাবাদী সুরে জানিয়েছেন যে, আজকের বিকালের মধ্যেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গ্যাসের চাপ সম্পূর্ণ স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরে আসবে। জনসাধারণের দুর্ভোগ লাঘব করতে সরকার দ্রুততম সময়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে এবং জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগ নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টায় ঐতিহাসিক যশোর সার্কিট হাউজে জেলা হাসপাতাল স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা কমিটির গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, আজ শুক্রবার সকাল ৭টা ১৮ মিনিট থেকেই ভাসমান দুটি এফএসআরইউ থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি খালাসের মূল প্রক্রিয়া নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে শুরু হয়েছে। এই খালাস প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার ফলে দেশের পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহের ওপর থেকে চাপ কমেছে এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্যাস সরবরাহের স্বাভাবিক চাপ ফিরে আসবে বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। আন্তর্জাতিক বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে বলতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী আরও জানান যে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের ও গ্যাসের দাম যদি আগামীতে স্থিতিশীল হয় এবং ক্রমান্বয়ে হ্রাস পায়, তবে দেশের সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করে দেশের বাজারেও তা দ্রুত সমন্বয়ের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। আন্তর্জাতিক বাজারের সুফল দেশের জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে বর্তমান সরকার সদা তৎপর রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
এর আগে যশোর সার্কিট হাউজ অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত জেলা হাসপাতাল স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় প্রধান অতিথির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এমপি যশোরবাসীকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই পূর্ণাঙ্গ ও আধুনিক করোনারি কেয়ার ইউনিট বা সিসিইউর চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার জোরালো প্রতিশ্রুতি দেন। গুরুতর হৃদরোগে আক্রান্ত রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য যাতে ভবিষ্যতে অন্য কোনো জেলায় বা দূরে যাওয়ার বিড়ম্বনার শিকার হতে না হয়, সেই সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য সামনে রেখেই বর্তমান সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত সভায় যশোর জেনারেল হাসপাতালের সার্বিক চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়ন, প্রাতিষ্ঠানিক অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং সাধারণ রোগীদের সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতকরণের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
সভার কার্যবিবরণী পর্যালোচনা করে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ইতিপূর্বে অনুষ্ঠিত সভায় যে সমস্ত সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছিল, সেগুলোর বাস্তবায়নের সার্বিক অগ্রগতি অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করা হয়েছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আশানুরূপ অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে এবং বাকি অসমাপ্ত কাজগুলো নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্টদের সুনির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় আধুনিক ও উন্নত চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য সরকারের রয়েছে। স্বাস্থ্য খাতের এই যুগান্তকারী উন্নয়ন সাধিত হলে সাধারণ মানুষ ব্যাপকভাবে উপকৃত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
উক্ত উচ্চপর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত নারী আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য সাবিরা নাজমুল মুন্নি, যশোরের বিজ্ঞ সিভিল সার্জন ডা. মো. মাসুদ রানা, যশোর জেনারেল হাসপাতালের সুযোগ্য তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. হুসাইন শাফায়াতসহ স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগের বিভিন্ন স্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। সরকারের এই বহুমুখী উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড এবং জ্বালানি খাতের স্থিতিশীলতা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে আরও সহজ ও স্বস্তিদায়ক করবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল আশা প্রকাশ করছে।