দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানাধীন এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ককটেল তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম এবং ৯ হাজার কাগজের মুখোশসহ জাহিদ হাসান ইমন (৩০) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দাবি, গ্রেপ্তারকৃত জাহিদ হাসান ইমন যুবলীগের একজন সক্রিয় নেতা। গত ১৯ সেপ্টেম্বর যাত্রাবাড়ী থানার সামনে সংঘটিত ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে চাঞ্চল্যকর এই তথ্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর মিন্টুরোডে অবস্থিত ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ সম্মেলনে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য তুলে ধরেন ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম প্রিভেনশন-দক্ষিণ) মো. তোফায়েল আহমেদ মিয়া। সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, গত ১৯ সেপ্টেম্বর যাত্রাবাড়ী থানার ঠিক সামনে একটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছিল। ওই নাশকতার ঘটনার পর থেকেই ওয়ারী বিভাগের যাত্রাবাড়ী ও শ্যামপুর থানাসহ সংশ্লিষ্ট পুলিশ ইউনিটগুলো সমন্বিতভাবে ছায়াতদন্ত শুরু করে। দীর্ঘ তদন্ত ও তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় সংগৃহীত সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে এই নাশকতার সঙ্গে জাহিদ হাসান ইমনের সরাসরি সম্পৃক্ততার সুনির্দিষ্ট তথ্য হাতে পায় পুলিশ।
এই তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার গভীর রাতে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার বাগাশুর এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে শ্যামপুর মডেল থানা পুলিশ। এ সময় দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশের সক্রিয় সহযোগিতায় অভিযুক্ত জাহিদ হাসান ইমনকে তার গোপন আস্তানা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে ইমনের দেওয়া তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে তার বাসভবন ও আশপাশের এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে ককটেল তৈরিতে ব্যবহৃত বিপুল পরিমাণ মারাত্মক বিস্ফোরক ও সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। উদ্ধারকৃত উপকরণের মধ্যে রয়েছে ১ কেজি ৫০০ গ্রাম কস্টিক সোডা, ১ কেজি ৬০০ গ্রাম সালফার, ৫ কেজি মারবেল, ২ কেজি ১ ইঞ্চি তারকাঁটা, ককটেল মোড়ানোর কাজে ব্যবহৃত ২০টি লাল কস্টেপ এবং ১১টি কালো কস্টেপ।
এছাড়াও তল্লাশি চালিয়ে তিনটি বড় কার্টুনে সংরক্ষিত কাগজের তৈরি মোট ৯ হাজার মুখোশ, মুখোশ পরার ৩০ প্যাকেট ইলাস্টিক, ককটেল তৈরির উপাদান বিচূর্ণ করার কাজে ব্যবহৃত জাইপান ব্র্যান্ডের একটি আধুনিক ব্লেন্ডার ও একটি জার উদ্ধার করা হয়েছে। ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার মো. তোফায়েল আহমেদ মিয়া জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত ইমন পুলিশকে জানিয়েছে যে, লালবাগের এক নেতার মাধ্যমে অজ্ঞাতনামা এক ভ্যানচালকের সহায়তায় এই বিপুল পরিমাণ মুখোশ তার কাছে পাঠানো হয়েছিল। পরবর্তীতে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের বিভিন্ন নেতার মধ্যে তা বিতরণের উদ্দেশ্যে এগুলো তার বাসায় অত্যন্ত গোপনে সংরক্ষণ করা হয়েছিল। পুলিশের জোরালো ধারণা, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সময়ে আয়োজিত গোপন মিছিলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে এসব মুখোশ ব্যবহারের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ছিল।
পুলিশের উচ্চপদস্থ এই কর্মকর্তা আরও নিশ্চিত করেছেন যে, গ্রেপ্তারকৃত জাহিদ হাসান ইমনের বিরুদ্ধে এর আগেও রাজধানীর শাহবাগ ও লালবাগ থানায় পৃথক দুটি অপরাধমূলক মামলা রয়েছে। এই চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত এবং এর পেছনে বড় কোনো নাশকতার পরিকল্পনা রয়েছে কি না, সে বিষয়ে তাকে আরও নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে এবং যেকোনো ধরনের নাশকতা রোধে ডিএমপির গোয়েন্দা ও অপারেশনাল টিমগুলোর অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।