রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর একটি বিতর্কিত বক্তব্য নিয়ে তীব্র আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকে স্পষ্ট ভাষায় জানানো হয়েছে যে, তার ওই বক্তব্য গভীরভাবে খতিয়ে দেখতে এবং এর নেপথ্যের সত্যতা জানতে তাকে পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদ করা উচিত। গত শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর মিন্টুরোডে অবস্থিত ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে ‘বিস্ফোরক দ্রব্য ও মুখোশ উদ্ধার সংক্রান্ত’ আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম প্রিভেনশন-সাউথ) মো. তোফায়েল আহমেদ মিয়া এই মন্তব্য করেন।
সংবাদ সম্মেলনে সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীতে চলমান ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাগুলোর বিষয়ে সাংবাদিকরা জানতে চান যে, এসব নাশকতায় কেবল কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের নেতাকর্মীরাই জড়িত রয়েছে, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীও সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছে। এই প্রশ্নের সরাসরি জবাবে ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সম্প্রতি দেওয়া একটি বিশেষ বক্তব্যের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। উল্লেখ্য, এর আগে রাজধানীতে একটি প্রতিবাদ মিছিল শেষে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী প্রকাশ্যে মন্তব্য করেছিলেন যে, বর্তমান সরকার যদি তাদের প্রধান তিনটি দাবি মেনে নেয়, তবে ঢাকা শহরে আর কোনো ধরনের ককটেল বিস্ফোরণ বা নাশকতার ঘটনা ঘটবে না। তার এই বক্তব্যটি সে সময় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর এই বিস্ফোরক ও ইঙ্গিতপূর্ণ বক্তব্য তুলে ধরে ডিএমপি কর্মকর্তা মো. তোফায়েল আহমেদ মিয়া বলেন, তিনি ঠিক কোন প্রেক্ষাপটে এবং কী উদ্দেশ্যে এই ধরনের বক্তব্য প্রদান করেছেন, তা পরিষ্কার হওয়া দরকার। এ বিষয়ে তাকে অবশ্যই জিজ্ঞাসাবাদ করা উচিত বলে মনে করেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সাংবাদিকরা পরবর্তীতে কৌতূহলী হয়ে প্রশ্ন করেন যে, তবে কি পুলিশ খুব শীঘ্রই নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে আনুষ্ঠানিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে? এর জবাবে যুগ্ম কমিশনার অত্যন্ত সাবধানতা অবলম্বন করে জানান যে, এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা একমাত্র পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলতে পারবেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও রাজধানীর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সব দিক খতিয়ে দেখছে বলে সংবাদ সম্মেলনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়।