জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রদান করা অত্যন্ত দূরদর্শী, দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ও দিকনির্দেশনামূলক ভাষণের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার বঙ্গভবন থেকে প্রেরিত এক বিশেষ বার্তায় রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে এই অভিনন্দনের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে। রাষ্ট্রপতির এই অভিনন্দন বার্তায় জাতিসংঘে বাংলাদেশের সুনির্দিষ্ট অবস্থান এবং বিশ্বমঞ্চে প্রধানমন্ত্রীর অত্যন্ত সময়োপযোগী উপস্থাপনার উচ্চ প্রশংসা করা হয়েছে, যা দেশজুড়ে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে বাংলাদেশের পক্ষে বাংলায় প্রথম অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভাষণ প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিশ্বনেতৃবৃন্দের সরব উপস্থিতিতে প্রদত্ত ওই ভাষণে তিনি বৈশ্বিক বিভিন্ন জটিল সংকটের পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ গণতান্ত্রিক রূপান্তর, জনকল্যাণমূলক নীতি এবং ভবিষ্যতের রূপরেখা অত্যন্ত স্পষ্ট ও জোরালো ভাষায় তুলে ধরেন। তাঁর সেই দিকনির্দেশনামূলক ভাষণের প্রতিটি শব্দ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ও কূটনৈতিক অবস্থানকে অত্যন্ত উজ্জ্বল করেছে বলে অভিনন্দন বার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের মর্যাদাপূর্ণ এই বিশ্বমঞ্চে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের মানুষের মৌলিক অধিকার, গণতন্ত্র এবং সুশাসনের পক্ষে অত্যন্ত দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করেন। ভাষণের মূল অংশে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ একটি সম্পূর্ণ সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও কল্যাণমুখী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং তা অর্জনের জন্য নাগরিকদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা অত্যন্ত আবশ্যক। এ প্রসঙ্গে তিনি অত্যন্ত জোরালো ভাষায় ঘোষণা করেন যে, রাষ্ট্রের নাগরিকদের সম্পূর্ণ ক্ষমতাহীন রেখে কোনো রাষ্ট্র কখনোই শক্তিশালী, নিরাপদ বা টেকসই হতে পারে না। দেশের প্রতিটি নাগরিকের গণতান্ত্রিক অধিকার এবং অর্থনৈতিক মুক্তি নিশ্চিত করার মাধ্যমেই কেবল একটি শক্তিশালী রাষ্ট্রকাঠামো বিনির্মাণ সম্ভব বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে আরও উল্লেখ করেন যে, বর্তমান জটিল বিশ্ব পরিস্থিতিতে শান্তি, নিরাপত্তা ও টেকসই উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে হলে গণতন্ত্রের চর্চা, মানবাধিকার রক্ষা, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, জবাবদিহি নিশ্চিতকরণ এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার কোনো বিকল্প নেই। এই মৌলিক স্তম্ভগুলোর যথাযথ অনুশীলনের মধ্য দিয়েই উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষা করে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হবে। বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে শান্তি প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, দীর্ঘস্থায়ী রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান এবং বৈষম্যহীন একটি মানবিক বিশ্ব সমাজ গঠনের ওপরও তিনি বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের এই গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশনে বাংলাদেশের সরকারপ্রধানের এমন দায়িত্বশীল, প্রজ্ঞাপূর্ণ ও দূরদর্শী বক্তব্য বিশ্ববাসীর বিশেষ নজর কেড়েছে এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ইতিবাচক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তাঁর পাঠানো অভিনন্দন বার্তায় গভীর সন্তোষ প্রকাশ করে আশা ব্যক্ত করেছেন যে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই দূরদর্শী ভাষণ ও বলিষ্ঠ কূটনৈতিক পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের সম্মান, গৌরব ও মর্যাদা আরও বহুগুণ বৃদ্ধি করবে। একই সঙ্গে বিশ্বশান্তি রক্ষা, মানবাধিকার সুরক্ষা এবং মানবতার কল্যাণে বাংলাদেশ অতীতের মতো ভবিষ্যতেও বিশ্ববাসীর পাশে থেকে অত্যন্ত ইতিবাচক ও গঠনমূলক ভূমিকা পালন করবে বলে রাষ্ট্রপতি পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করেছেন। বঙ্গভবন থেকে পাঠানো এই অভিনন্দনের পর দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন, বুদ্ধিজীবী সমাজ ও বিভিন্ন মহলে প্রধানমন্ত্রীকে সাধুবাদ জানানোর ধারা অব্যাহত রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর এই ঐতিহাসিক ভাষণ কেবল দেশের অভ্যন্তরে গণতান্ত্রিক আত্মবিশ্বাসকে সুদৃঢ় করেনি, বরং বৈশ্বিক কূটনীতিতেও একটি গভীর ও সুদূরপ্রসারী ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে, যা আগামী দিনে দেশের সামগ্রিক অগ্রযাত্রাকে আরও অনেক বেশি বেগবান করবে।