আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে চলতি বছরের অক্টোবর মাসে দেশের সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য টানা সাত দিন পর্যন্ত ছুটি উপভোগ করার একটি চমৎকার ও বিশেষ সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে সরকারি নির্ধারিত ছুটি, ঐচ্ছিক ছুটি এবং সাপ্তাহিক ছুটির এক অপূর্ব সংমিশ্রণে গঠিত এই দীর্ঘ ছুটির সুবিধা মূলত সনাতন ধর্মাবলম্বী নির্দিষ্ট কিছু শ্রেণির সরকারি চাকরিজীবীরাই লাভ করতে পারবেন। দেশের প্রচলিত সরকারি ছুটির পঞ্জিকা এবং নিয়মকানুন অনুযায়ী, এই দীর্ঘ ছুটির আওতামুক্ত রাখা হয়েছে জরুরি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সেবামূলক খাতের কর্মীদের, যাতে সাধারণ জনগণের সেবা বিঘ্নিত না হয়।
সরকারি ছুটির প্রাত্যহিক পঞ্জিকা অনুযায়ী, আসন্ন দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে আগামী ২০ অক্টোবর (মঙ্গলবার) মহানবমী উপলক্ষে বিশেষ নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এর ঠিক পরদিন অর্থাৎ ২১ অক্টোবর (বুধবার) পবিত্র বিজয়া দশমী উপলক্ষে দেশের সকল সরকারি প্রতিষ্ঠানে নির্ধারিত সাধারণ ছুটি থাকবে। এর ফলে সাধারণ অর্থে সকল সরকারি চাকরিজীবীর জন্য দুর্গাপূজার মূল সরকারি ছুটি হিসেবে দুই দিন নির্ধারিত থাকছে। তবে সনাতন ধর্মাবলম্বী সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য এই ছুটির পরিধি আরও দীর্ঘ ও ব্যাপক করার বিশেষ সুযোগ রাখা হয়েছে।
বিদ্যমান ছুটির বিধান অনুযায়ী, তারা চাইলে ১৮ অক্টোবর (রোববার) মহাসপ্তমী এবং ১৯ অক্টোবর (সোমবার) মহাষ্টমী উপলক্ষে তাদের নির্ধারিত ঐচ্ছিক ছুটি গ্রহণ করতে পারবেন। এর সঙ্গে যদি ২০ ও ২১ অক্টোবরের মূল সরকারি ছুটি এবং পরবর্তীতে ২২ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) সাধারণ ছুটি কিংবা নৈমিত্তিক ছুটি যুক্ত করা হয়, তবে তার পরের দিনের নিয়মিত সাপ্তাহিক ছুটি তথা শুক্রবার ও শনিবারের সঙ্গে মিলিয়ে মোট টানা সাত দিনের একটি চমৎকার ছুটির সুবিধা উপভোগ করতে পারবেন তারা। বিকল্পভাবে, এই হিসাবের কিছুটা ব্যত্যয় ঘটলেও ন্যূনতম পাঁচ দিনের ছুটি ভোগ করার পূর্ণ সুযোগ তাদের থাকবে। দেশের সনাতন ধর্মাবলম্বী চাকরিজীবীরা এই দীর্ঘ ছুটির সুযোগ কাজে লাগিয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা উদ্যাপন করতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, সনাতন ধর্ম ছাড়া অন্যান্য ধর্মের সরকারি চাকরিজীবী, সাধারণ শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা কেবল নির্ধারিত দুই দিনের মূল সরকারি ছুটিই ভোগ করতে পারবেন। তবে দেশের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ছুটির নীতিমালা ও পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই ছুটির বিষয়টি অভ্যন্তরীণভাবে সমন্বয় করতে পারবে। আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে সরকারি ছুটির দিনগুলোতে দেশের সকল তফসিলি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণরূপে বন্ধ থাকবে; তবে গ্রাহকদের জরুরি ব্যাংকিং লেনদেন ও প্রয়োজনের কথা বিবেচনা করে নির্দিষ্ট কিছু শাখা এবং অনলাইন ব্যাংকিং ও এটিএম সেবা চালু রাখার সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
এদিকে সার্বজনীন ও উৎসবমুখর ছুটি ঘোষিত হলেও দেশের জরুরি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সেবা খাতের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত কর্মীরা এই দীর্ঘ ছুটির সুবিধার আওতার বাইরে থাকবেন। বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জননিরাপত্তা বিধানের দায়িত্বে নিয়োজিত পুলিশ বাহিনী, হাসপাতাল ও জরুরি চিকিৎসাসেবার সঙ্গে জড়িত ডাক্তার ও কর্মকর্তা-কর্মচারী, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানি সরবরাহকারী বিভিন্ন ইউটিলিটি প্রতিষ্ঠান এবং গণমাধ্যমকর্মীদের এই উৎসবের ছুটির দিনগুলোতেও সার্বক্ষণিক স্ব স্ব কর্মস্থলে উপস্থিত থেকে অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে নিজ দায়িত্ব পালন করতে হবে। সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা স্বাভাবিক রাখতে এবং জরুরি সেবা নির্বিঘ্ন রাখতেই এই বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।